টেলিভিশনের ক্ষমতা অনেক বেশি : সুপ্রিয়া পাঠক
‘টেলিভিশনের ক্ষমতা অনেক বেশি। তাই তো সিনেমার হিরো-হিরোইনদের তাঁদের ছবি প্রচারের জন্য টিভির সাহায্য নিতে হয়। টেলিভিশন মাধ্যমকে মোটেই ছোট করে দেখা উচিত নয়।’ সংবাদমাধ্যমের সামনে এভাবেই টেলিভিশন মাধ্যমের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন বলিউডের অন্যতম গুণী অভিনেত্রী তথা পরিচালক পঙ্কজ কাপুরের ঘরণী এবং অভিনেতা শাহিদ কাপুরের মা সুপ্রিয়া পাঠক।
টেলিভিশনের ঢালাও প্রশংসা করলেও টিভি সিরিয়াল নিয়ে অন্য অনেক দর্শকের সঙ্গে মতবিরোধ রয়েছে এই অভিনেত্রীর। জানিয়েছেন, টিভি সিরিয়ালের একটাই মুশকিল, গল্প বড্ড খেই হারিয়ে ফেলে। প্রথমে টিভি সিরিয়ালের গল্পগুলো এক জায়গায় শুরু হয়, তার পর বাড়তে বাড়তে সে যে কোথায় পৌঁছায়, কেউ জানে না। আমার এটা পছন্দ নয়। অবশ্য তিনি সিনেমার পাশাপাশি নিজেও যে টিভি সিরিয়ালে অভিনয় করেননি এমনটা নয়, বর্তমানেও টিভি সিরিয়ালে অভিনয় করছেন। তবে টিভি সিরিয়ালে অভিনয় করলেও নিজে খুব একটা টিভি সিরিয়াল দেখেন না বলেই জানিয়ে দিলেন।
সিনেমা ও টিভি সিরিয়ালের মধ্যে যে অনেকটাই ফারাক রয়েছে, এ কথাও উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী। জানালেন, সিনেমায় কিছু চরিত্র থাকে, যেগুলো লার্জার দ্যান লাইফ। কিন্তু সিরিয়ালের প্রথম লক্ষ্যই থাকে, প্রতিটি চরিত্র যেন বাস্তবের সঙ্গে মিলে যায়। জীবনের সঙ্গে মানানসই হয়।
বলিউডপাড়ায় প্রচারের দৌড়ে খানিকটা পিছিয়ে পড়া এই অভিনেত্রী বললেন, ‘আমি নিজের মনের মতো করে চলার চেষ্টা করি। কখনই পয়সার পেছনে দৌড়াই না। পরিবার-পরিজন, প্রিয় বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করি।’ নিজের পরিবার এবং ব্যক্তিগত জীবন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সুপ্রিয়া বলেছেন, “আমি এমন কোনো কাজ করি না, যাতে সমস্যা হয়। আমাদের পরিবারে তো নতুন সদস্য এসেছে। শাহিদের স্ত্রী মীরা। অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করেন, মীরার সঙ্গে আমার সম্পর্ক কেমন? আমি বলি, সবাই বলে ‘ডটার ইন-ল’, মানে বউমা। আমি বলি, ‘ইন-ল’ নয়, শুধু ‘ডটার’। মীরা আমার কাছে আমার অন্য দুই সন্তানের মতো। ওর সঙ্গে আমি ঝগড়াও করতে পারি। ভালোও বাসতে পারি। সেটাই তো সম্পর্ক।”

সম্প্রতি ‘লাইফ ওকে’ চ্যানেলে নতুন সিরিয়াল ‘জানে কেয়া হোগা রামা রে’-তে রামভাতেরি চরিত্রে অভিনয় করছেন সুপ্রিয়া পাঠক। এ ছাড়া ‘মাসুম’ থেকে শুরু করে ‘রামলীলা’র মতো জনপ্রিয় ছবিতে অসাধারণ সব চরিত্রেও অভিনয় করেছেন। কিন্তু মনের মতো চরিত্র এখনো পেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে খুব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন, “মনের মতো চরিত্রে এখনো অভিনয় করতে পেরেছি কি না, সেটা বলা সত্যিই খুব কঠিন ব্যাপার। আসলে আমি বরাবরই ‘হ্যাপি গো লাইক’ চরিত্রের মানুষ।”
সুপ্রিয়া পাঠক বলেন, ‘অভিনয়ের সুযোগ পেলেই কীভাবে দর্শকের সামনে মনের মতো করে, আমার নিজের চরিত্রটা ফুটিয়ে তুলব, সেটার ওপরেই জোর দিই। আর আমি মনে করি, একজন অভিনেত্রীর কাজই হলো, নিজের চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলার সময় ব্যক্তি চরিত্রটিকে ঘরে ফেলে আসা। আমি সব সময় সেটাই করার চেষ্টা করি। পারি কি না, তার উত্তর দর্শকই ভালো দিতে পারবেন।’

মনোজ বসু, কলকাতা