দৃশ্যকাব্য থিয়েটারের প্রযোজনায় ঢাকার মঞ্চে ‘ইডিপাস’
প্রাচীন গ্রিক নাট্যকার সফোক্লিসের অমর সৃষ্টি ‘ইডিপাস’আবারও মঞ্চে আসছে নাট্যসংগঠন দৃশ্যকাব্য থিয়েটারের নতুন প্রযোজনায়। নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় সেগুনবাগিচাস্থ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে। পরের দিন শুক্রবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট ও সন্ধ্যা ৭টায় একই স্থানে আরো দুটি প্রদর্শনী শুরু হবে৷
মানব নিয়তি, ভাগ্য ও আত্ম-চেতনার গভীর অনুসন্ধান নিয়ে রচিত এই শাশ্বত ট্র্যাজেডি এবার সমকালীন দর্শন থেকে নতুন ব্যাখ্যায় মঞ্চে উপস্থাপন হতে যাচ্ছে। সৈয়দ আলী আহসান অনূদিত নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. হাবিব মাসুদ।
নাটকটির নির্দেশক ড. হাবিব মাসুদ বলেন, বোধকরি সময় আমাদের চালিত করে। ইডিপাসকে মঞ্চে আনবার ক্ষেত্রেও বর্তমান সময় আমাকে ভাবিয়েছে। আজকের বাংলাদেশের রাজনৈতিক-সামাজিক প্রেক্ষাপটে এক বিরাট শূন্যতা অনুভব করি। মনে হয়েছে, অনন্ত রাত্রির ঘোর অন্ধকারে আমরা নিমজ্জিত-আমাদের কি কোনো নেতৃত্ব নেই? এই নিয়তি কি অনতিক্রম্য? প্রাচীন গ্রিক নাট্যকার সফোক্লিস রচিত ইডিপাস আমার কাছে মনে হয়েছে নেতৃত্বহীনতায় নিমজ্জিত এক জনপদের গল্প। নিয়তিকে অতিক্রমের আর্তনাদ ইডিপাসকে মহান করে তোলে, কিন্তু সে নিয়তিকে জয় করতে পারে না। ক্লাসিকের শক্তি সর্বকালের-সর্বমানবের-তাই মূল পাঠে পরিবর্তন না করেও চরিত্র ও কোরাসের ব্যবহারে আমরা কিছু পরীক্ষণের প্রয়াস নিয়েছি। আশা করি, দৃশ্যকাব্য-এর এই প্রযোজনা দর্শককে প্রাচীন থিবি নগরীর রাজপ্রাসাদে কিছুক্ষণের জন্য হলেও নিয়ে যাবে।
নাটকটির আলোক পরিকল্পনায় অম্লান বিশ্বাস৷ মঞ্চ পরিকল্পনায় ফজলে রাব্বি সুকর্ণ। পোশাক পরিকল্পনা ড. আইরীন পারভীন লোপা৷ রূপসজ্জায় শুভাশিস দত্ত তন্ময় এবং দ্রব্যসামগ্রী নির্মাণ করেছেন শরিফুল ইসলাম মামুন ও রোকসানা আক্তার সায়মা৷
ইডিপাস চরিত্রে অভিনয় করছেন এইচ এম মোতালেব। তাঁর সঙ্গে মঞ্চে থাকছেন মো. রেজাউল করিম রেজা, ঝুমু মজুমদার, হীরালাল দাস, আহাদ বিন মুর্তজা, অর্ঘ্য সাহা, নাইমুল ইসলাম সিয়াম, মো. মুন্না মোল্লা, আশিকুল ইসলাম, রিমন সাহা, উৎপল চন্দ্র বর্মণ, কান্তা কামরুন, ওমর ফারুক খান ফাহিম, পায়েল আহমেদ, আফরোজা বিথী, মো. রিয়াজুল করিম রিয়াজ ও রিয়া হোসেন৷
দৃশ্যকাব্যর প্রধান সম্পাদক এইচ এম মোতালেব জানান, সংস্কৃতিহীন জাতির কোনো পরিচয় নেই। নাটক শুধু বিনোদন নয়- এটি মানুষের চেতনাকে জাগিয়ে তোলে। দৃশ্যকাব্য শুরু থেকেই পেশাদার নাট্যচর্চার পথে এগিয়ে চলেছে, যদিও পথটি সহজ নয়। আমরা বিশ্বাস করি, প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পীদের সমন্বয়ে ও সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতায় পেশাদার নাট্যচর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। আমাদের স্লোগান- ‘আঁধার কাটুক দৃশ্য ও উচ্চারণে’। নাটক দীর্ঘজীবী হোক। পরবর্তীতে দৃশ্যকাব্য নাটকটি দেশব্যাপী প্রদর্শনীর ইচ্ছে আছে।
বিশ্বসাহিত্যের বিচারে সেরা ট্র্যাজেডি ক্ল্যাসিক্যাল গ্রিক নাট্যকার সফোক্লিস রচিত ‘ইডিপাস’। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রায়োগিক পরীক্ষার অংশ হিসেবে এর আগেও এই নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন হাবিব মাসুদ। যেটি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট প্রদর্শিত হয়।
এর আগে ঢাকা ও চট্টগ্রামের একাধিক নাট্যদল নাটকটি মঞ্চে আনে। চট্টগ্রামের তির্যক নাট্যদল ১৯৯৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মুসলিম হলে নাটকটির প্রথম মঞ্চায়ন করে। ২০১৫ সালের ১৫ মে থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম (টিআইসি) মিলনায়তনে আহমেদ ইকবাল হায়দার নির্দেশিত তির্যক এই নাটকটির শততম মঞ্চায়নের গৌরব অর্জন করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক