সদ্য প্রয়াত বাবাকে নিয়ে বন্যা মির্জার আবেগঘন পোস্ট
ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী বন্যা মির্জার বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মির্জা আবুল হাসনাত ইনামুল বারী গত ১৫ এপ্রিল সকালে মারা যান। বাবার মৃত্যুর সময়ে বন্যা বাংলাদেশে ছিলেন না।
গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বাবাকে নিয়ে দীর্ঘ এক পোস্টে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন তিনি। যেখানে তার বাবার সরল জীবনযাপন, সততা এবং শেষ মুহূর্তের কিছু স্মৃতি তুলে ধরেছেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে বন্যা মির্জা লিখেছেন, ‘আমার বাপী মির্জা আবুল হাসনাত ইনামুল বারী গত ১৫ এপ্রিল সকাল ১০ টা ৪৫ মিনিটে আমাদের ছেড়ে চলে যান অন্য এক অজানা জগতে। সকল সন্তান তার বাবাকে সৎ ও সাহসী ভাবতে পছন্দ করে। কিন্তু আমার বাবা প্রকৃত সৎ ও সাহসী। জীবন নিয়ে তার কোনো অভিযোগ ছিলো না। শুধু চাইতেন আমরা তার সামনে থাকি সবসময়।’
অভিনেত্রী লেখেন, ‘তিনি অনেক বড় পদে কাজ করেছেন তাঁর কর্মজীবনে। কিন্তু আমরা তা কোনদিন বুঝতে পারিনি। কারণ এই নয় যে আমরা জানতাম না। কারণ আমাদের জীবন খুব সাধারণ ছিল, এখনো আছে। তিনি তার কর্মজীবনে অনেকগুলো মানুষের ভরণপোষণ করেছেন। আমি তার সততার বড়াই করছি না। বরং এটা একটা স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে দেখছি বা আমরা তাই দেখি। তবু আজ বলছি কারণ তিনি আর নেই কোথাও।’
অবসরের পর ওপেন হার্ট সার্জারির দিনগুলোতেও তার বাবা হাসিমুখে লড়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি লেখেন, ‘আমাদের কোনো সম্পত্তি নেই। থাকার কথাও না। সেসবে আমাদের প্রয়োজনও নেই। আমার বাবা তাঁর সমস্ত জীবন খুব সাধারণভাবে কাটিয়েছেন। যারা তাঁকে চেনেন তারা সকলেই জানেন। তাঁর অফিসের সহকর্মীরাও জানতেন। অফিসে কোনোদিন দেরী করে যাননি। অনেক কষ্ট করেছেন তবু হাসিমুখে থেকেছেন। রিটায়ার এর পরে তাঁর ওপেন হার্ট সার্জারি হয়। সেদিনও আমি কাজে ছিলাম। আমরা চারজন, তিন বোন আর এক ভাই, আমরা সবাই কাজের ক্ষেত্রে তাঁর মতন। বা অনেক ক্ষেত্রেই। আমার বাবা বিশেষ বা বিশাল কোনো মানুষ ছিলেন বলে আমারা দাবি করিনা। তিনি সাধারণ মানুষ ও একজন বাবা। আমরাও তাঁর মতো খুব সাধারণ, এবং আমাদের জীবনও তাই। এইভাবে থাকা আমরা আমার বাবার কাছেই শিখেছি।’
কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অভিনেত্রেী লেখেন, ‘তবুও আমি যেহেতু মিডিয়াতে কাজ করি বা করেছি তাই কিছু মানুষ আমাকে চেনেন। আমার বাবাকে নিয়ে অনেকে নিউজ করেছেন। যারা নিউজ করেছেন তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আমার বাবার জন্য আমার সহকর্মীরা পোস্ট দিয়েছেন। সেসব পোস্টে সহকর্মীরা সহমর্মিতা, সমবেদনা জানিয়েছেন। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। অনেক মানুষ আমাকে কল করে সমবেদনা জানিয়েছেন, তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা।’
বন্যা মির্জা তার পোস্টে আরও একটি আবেগী তথ্য শেয়ার করে জানান, মৃত্যুর আগের রাতে তার বাবা পরিবারের সবাইকে ভিডিও কল করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। এর পরদিন সকালেই তিনি অন্য এক অজানা জগতে পাড়ি জমান।
আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) যোহর নামাজের পর মনসুরাবাদ জামে মসজিদে তার জানাজা হবে বলেও জানান অভিনেত্রী।
সবশেষ বন্যা মির্জা লেখেন, ‘আমার বাবার জন্য আপনাদের দোয়া প্রার্থনা করি। কোনো আত্মীয় স্বজন বা পরিচিত কেউ যদি আমার বাবার কারণে দুঃখ পেয়ে থাকেন তো তাকে ক্ষমাতে রাখবেন এই আশা করি।’

বিনোদন ডেস্ক