দর্শকদের ভালোবাসায় সর্বোচ্চ আয়ের ইতিহাস গড়ল ‘মাইকেল’
মৃত্যুর প্রায় দুই দশক পরও বিশ্বজুড়ে অটুট রয়েছে পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জনপ্রিয়তা। সেই জনপ্রিয়তারই নতুন প্রমাণ হয়ে উঠেছে তার জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’। মুক্তির কয়েক মাসের মধ্যেই সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে ১ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পেরিয়ে ইতিহাস গড়েছে। এর মধ্য দিয়ে এটি বিশ্বের প্রথম বায়োপিক হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করল।
সিনেমাটি আন্তর্জাতিক বাজারে আয় করেছে ৬২৯ দশমিক ৮ মিলিয়ন এবং উত্তর আমেরিকায় ৩৭১ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। সব মিলিয়ে এর বৈশ্বিক আয় দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ০০১ বিলিয়ন ডলারে, যা বায়োপিক ঘরানার চলচ্চিত্রের জন্য নতুন রেকর্ড।
‘মাইকেল’-এর যাত্রা একেবারে মসৃণ ছিল না। মুক্তির আগে সিনেমাটির চিত্রনাট্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও গত এপ্রিলে বড় পর্দায় আসার পর থেকে দর্শকদের আগ্রহে একের পর এক রেকর্ড গড়েছে ‘মাইকেল’।
গত এপ্রিল মাসে বিশ্বব্যাপী মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই সিনেমাটি উত্তর আমেরিকায় ৯৭ মিলিয়ন এবং বিশ্বব্যাপী ২১৭ মিলিয়ন ডলার আয় করে। প্রথম সপ্তাহের এই আয়ের মাধ্যমে সিনেমাটি ২০১৫ সালের ‘স্ট্রেইট আউটটা কম্পটন’ এবং ২০১৮ সালের ফ্রেডি মার্কারিকে নিয়ে নির্মিত বায়োপিক ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’র ৯১১ মিলিয়ন ডলারের আয়কে ছাড়িয়ে যায়। এর কিছুদিন পরই এটি ক্রিস্টোফার নোলানের ব্লকবাস্টার হিট সিনেমা ‘ওপেনহাইমার’কে টপকে যায়, যা ৯৭৭ মিলিয়ন ডলার আয় করে এতদিন শীর্ষস্থানে ছিল।
পাশাপাশি ২০১৩ সালের ‘দ্য হাঙ্গার গেমস: ক্যাচিং ফায়ার’কে টপকে এটি এখন বিশ্বখ্যাত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান লায়ন্সগেট স্টুডিওসের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল সিনেমায় পরিণত হয়েছে।
২০২৩ সালের গ্রীষ্মে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলা ইন্টারনেট অবসেসন ‘বারবেনহাইমার’ ঝড়ের সুবিধা পেয়ে ‘ওপেনহাইমার’ যে রেকর্ড গড়েছিল, তাকেও শেষ পর্যন্ত টপকে গেল ‘মাইকেল’।
অ্যান্টোনি ফুকা পরিচালিত এই সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটেছে মাইকেল জ্যাকসনের ভাতিজা জাফর জ্যাকসনের। মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলেছে। এই ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জনের আগে ‘মাইকেল’ আরও বেশ কিছু বড় রেকর্ড ভেঙেছে।
মার্কিন গণমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনো স্বাধীন (ইনডিপেনডেন্ট) স্টুডিওর নির্মিত ও পরিবেশিত প্রথম সিনেমা হিসেবে বক্স অফিসে ১ বিলিয়ন ডলার আয়ের নতুন ইতিহাস তৈরি করলো ‘মাইকেল’। শুরুতে বেশ কয়েকটি বড় স্টুডিও এই প্রজেক্টে অর্থায়ন করতে অস্বীকৃতি জানালেও লিয়ন্সগেট ঝুঁকি নিয়ে ইউনিভার্সাল পিকচার্স ও কিনো ফিল্মসের সঙ্গে যৌথভাবে সিনেমাটি প্রযোজনা করে, যা শেষ পর্যন্ত বিশাল ব্যবসায়িক সাফল্যে রূপ নিল।
দর্শকদের ইতিবাচক সাড়ায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রায় তিন মাসের মাথায় ১ বিলিয়ন ডলারের অভিজাত ক্লাবে প্রবেশ করলো ‘মাইকেল’।

বিনোদন ডেস্ক