না ফেরার দেশে ‘দক্ষিণের কোকিল’ এস জানকী
দক্ষিণ ভারতীয় সংগীতজগতের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এস জানকী চলে গেলেন না ফেরার দেশে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা দেশজুড়ে। মিষ্টি ও মেলোডিয়াস কণ্ঠের জন্য ‘দক্ষিণ ভারতের কোকিল’ (নাইটিঙ্গেল অব সাউথ ইন্ডিয়া) বলে ডাকা হত তাকে। দেশটির কর্ণাটকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শনিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অভিনেতা রজনীকান্ত, কমল হাসান, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়সহ ভারতের চলচ্চিত্র ও সংগীতজগতের তারকারা।
শনিবার ( ১১ জুলাই) কর্ণাটকের মহীশূরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বয়সজনিত নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন জানকি। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
গায়িকার নাতনি অপ্সরা বৈদ্যুলা ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতেই তিনি শান্তিতে বিদায় নিয়েছেন। আমাদের হৃদয় ভারাক্রান্ত, তবে তার অসাধারণ জীবন ও সংগীতের মাধ্যমে তিনি কোটি মানুষের জীবনে যে আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েছেন, সে জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। বিশ্বের কাছে তিনি ছিলেন এক কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী, আর আমাদের কাছে ছিলেন স্নেহময়ী দাদি।’
১৯৩৮ সালের ২৩ এপ্রিল অন্ধ্রপ্রদেশের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেন এস জানকী। প্রাতিষ্ঠানিক বা বড় কোনো ওস্তাদের কাছে গানের তালিম না নিলেও ছোটবেলা থেকেই তার গলায় ছিল স্রষ্টার দেওয়া এক জাদুকরি সুর। মাত্র ৯ বছর বয়সে প্রথমবার স্টেজে গান গেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
বিশ বছর বয়সে কাকার পরামর্শে চেন্নাইয়ের বিখ্যাত এভিএম স্টুডিওতে অডিশন দিতে যান জানকী। ব্যস, এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৯৫৭ সালে তামিল সিনেমা দিয়ে প্লেব্যাকে যাত্রা শুরু করে টানা ছয় দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি ২০টির বেশি ভারতীয় ভাষায় প্রায় ৪৮ হাজার গান রেকর্ড করেন। ক্যারিয়ারে তিনি চারটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং বিভিন্ন ভাষায় ৩৩টি রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

বিনোদন ডেস্ক