৯/১১: ভয়াবহ সেই হামলার গল্প উঠে এসেছে যেসব সিনেমায়
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে এবং একটি ওয়াশিংটন ডিসির পেন্টাগনে আঘাত হানে। অপর বিমানটি পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।
ভয়াবহ ওই হামলায় ২ হাজার ৯৭৭ জন নিহত হন। আহত হন ২৫ হাজারের বেশি মানুষ। ধ্বংস হয় বিপুল অবকাঠামো ও সম্পদ। বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই ঘটনাই সংক্ষেপে ‘৯/১১’ বা ‘নাইন-ইলেভেন’ নামে পরিচিত।
হামলার পর ঘটনাটি নিয়ে নির্মিত হয়েছে অসংখ্য সিনেমা ও প্রামাণ্যচিত্র। কখনো প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকর্মীদের অভিজ্ঞতা, কখনো স্বজন হারানো মানুষের বেদনা, আবার কখনো হামলার পরবর্তী রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি উঠে এসেছে এসব নির্মাণে। ৯/১১ নিয়ে নির্মিত আলোচিত কয়েকটি সিনেমা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
৯/১১
হামলার পরপরই নির্মিত উল্লেখযোগ্য প্রামাণ্যচিত্র ‘৯/১১’। ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ফ্রাঙ্কো-আমেরিকান এই নির্মাণের পরিচালক জুলস নওদেট, গ্যাডন নওদেট ও জেমস হ্যানলন। নিউইয়র্ক সিটি ফায়ার বিভাগের দৃষ্টিকোণ থেকে হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়েছে এতে।
১১’০৯’’০১ সেপ্টেম্বর ১১
২০০২ সালে মুক্তি পায় ‘১১’০৯’’০১ সেপ্টেম্বর ১১’। বিশ্বের ১১টি দেশের ১১ জন পরিচালকের নির্মিত ১১টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নিয়ে তৈরি এই সংকলন। প্রতিটি চলচ্চিত্রে ৯/১১ হামলাকে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখানো হয়েছে। সিনেমাটির নামের ১১ মিনিট, ৯ সেকেন্ড ও ১ ফ্রেম হামলার তারিখের প্রতীকী উপস্থাপন।
ফারেনহাইট ৯/১১
মাইকেল মুর পরিচালিত প্রামাণ্যচিত্র ‘ফারেনহাইট ৯/১১’ মুক্তি পায় ২০০৪ সালে। এতে ৯/১১ হামলার প্রেক্ষাপট, জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের ভূমিকা এবং হামলার পর ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সিনেমাটি রাজনৈতিক প্রামাণ্যচিত্র হিসেবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
দ্য ফ্লাইট দ্যাট ফট ব্যাক
ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৯৩-এ হামলার দিন কী ঘটেছিল, তা অনুসন্ধান করে নির্মিত হয় ‘দ্য ফ্লাইট দ্যাট ফট ব্যাক’। ২০০৫ সালে মুক্তি পাওয়া এই ডকুড্রামায় ফ্লাইটের ভয়েস রেকর্ডিং, যাত্রীদের স্বজনদের সাক্ষাৎকার ও ঘটনার পুনর্নির্মাণ ব্যবহার করা হয়েছে। এটি পরিচালনা করেন ব্রুস গুডিসন।
ইউনাইটেড ৯৩
২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ইউনাইটেড ৯৩’ সিনেমাটি পরিচালনা করেন পল গ্রিনগ্রাস। ফ্লাইট ৯৩-এর যাত্রী ও ক্রুদের সম্মিলিত প্রতিরোধ এবং আত্মত্যাগের ঘটনা নিয়ে নির্মিত এই সিনেমা। বাস্তব ঘটনার আবহ ধরে রাখতে এতে অভিনয়শিল্পীদের পাশাপাশি কিছু বাস্তব এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারকেও যুক্ত করা হয়েছিল। সিনেমাটি সমালোচকদের প্রশংসা পায়।
ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার
অলিভার স্টোন পরিচালিত ‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার’ মুক্তি পায় ২০০৬ সালে। হামলার সময় ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়া নিউইয়র্ক পুলিশের দুই কর্মকর্তা ও তাদের উদ্ধার অভিযানের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে এতে। অভিনয় করেছেন নিকোলাস কেজ, মাইকেল পেনা, মারিয়া বেলো, ম্যাগি গিলেনহাল ও মাইকেল শ্যানন। সিনেমাটি মানবিক আবেগ ও উদ্ধারকর্মীদের সাহসিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
রেইন ওভার মি
২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘রেইন ওভার মি’ পরিচালনা করেন মাইক বাইন্ডার। সিনেমাটির গল্পে ৯/১১ হামলায় স্ত্রী ও সন্তান হারানো এক ব্যক্তির মানসিক সংকট এবং পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে তার পুনর্মিলনের বিষয়টি উঠে এসেছে। এতে অভিনয় করেছেন অ্যাডাম স্যান্ডলার, ডন চ্যাডল, জাদা পিঙ্কেট স্মিথ ও লিভ টাইলার।
রিমেম্বার মি
অ্যালেন কুল্টার পরিচালিত ‘রিমেম্বার মি’ মুক্তি পায় ২০১০ সালে। রবার্ট প্যাটিনসন ও এমিলি ডি রাভিন অভিনীত এই রোমান্টিক ড্রামায় পারিবারিক টানাপোড়েন, ভালোবাসা ও ব্যক্তিগত বেদনার গল্পের সঙ্গে ৯/১১ হামলার ঘটনাকে যুক্ত করা হয়েছে। সিনেমাটির শেষাংশে হামলার প্রভাব গল্পে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এক্সট্রিমলি লাউড অ্যান্ড ইনক্রেডিবলি ক্লোজ
জোনাথন সাফরান ফয়ের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘এক্সট্রিমলি লাউড অ্যান্ড ইনক্রেডিবলি ক্লোজ’ মুক্তি পায় ২০১১ সালে। স্টিফেন ডালড্রি পরিচালিত সিনেমাটিতে ৯/১১ হামলায় বাবাকে হারানো এক শিশুর মানসিক যাত্রা তুলে ধরা হয়েছে। অভিনয় করেছেন টমাস হর্ন, স্যান্ড্রা বুলক, টম হ্যাঙ্কস, ভায়োলা ডেভিস ও ম্যাক্স ফন সিডো।
জিরো ডার্ক থার্টি
ক্যাথরিন বিগেলো পরিচালিত ‘জিরো ডার্ক থার্টি’ মুক্তি পায় ২০১২ সালে। ৯/১১ হামলার পর আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে বের করার দীর্ঘ গোয়েন্দা অভিযান এবং ২০১১ সালের অভিযানের কাহিনি নিয়ে নির্মিত সিনেমাটি। এতে অভিনয় করেছেন জেসিকা চ্যাস্টেইন, জেসন ক্লার্ক, জোয়েল এডগারটন ও ক্রিস প্র্যাট। সিনেমাটি ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে এবং একাধিক পুরস্কারের মনোনয়ন পায়।
তথ্যসূত্র: দ্য কালচার ট্রিপ

বিনোদন ডেস্ক