বরিশালে চলচ্চিত্র উৎসবে দেশের নানা প্রান্তের গল্প
নদী-খাল আর সবুজে ঘেরা বরিশাল। শিল্প-সাহিত্যের ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এই শহরে এবার যুক্ত হলো চলচ্চিত্রের নতুন এক আয়োজন। প্রথমবারের মতো বরিশালে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসব। ইএসডিআই ফিল্ম সোসাইটির আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে গতকাল শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই উৎসব।
উৎসবের দ্বিতীয় দিন আজ শনিবার সকাল ১১টায় বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয় চলচ্চিত্রবিষয়ক কর্মশালা। এতে চলচ্চিত্র নির্মাণ, গল্প বলার কৌশল ও চলচ্চিত্রচর্চার বিভিন্ন দিক নিয়ে দেশবরেণ্য নির্মাতাদের কাছ থেকে সরাসরি শেখার সুযোগ পান অংশগ্রহণকারীরা। বিকেলে একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয় চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। দেখানো হয় ‘কুড়া পক্ষীর শূন্যে উড়া’, ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’সহ মোট চারটি চলচ্চিত্র।
গতকাল উৎসবের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের সভাপতি ডা. জহিরুল ইসলাম কচি। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরউল্লাহ, চলচ্চিত্র নির্মাতা মুহাম্মদ কাইয়ুম, নির্মাতা খন্দকার সুমন ও অভিনেতা হায়দার আলী।
বরিশাল চলচ্চিত্র উৎসব বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক এস এম সাব্বির নেওয়াজ সাগরের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইএসডিআই ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি জসিম উদ্দিন ইমন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম।
উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতার পরই আলো-আঁধারির প্রেক্ষাগৃহে শুরু হয় চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। দর্শকের সামনে পর্দায় উঠে আসে নির্মাতা তানিম নূরনি নির্মিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা খন্দকার সুমনের ‘সাঁতাও’। দুটি চলচ্চিত্রের গল্প, নির্মাণভঙ্গি ও বাংলাদেশের ভিন্ন ভিন্ন জনপদের জীবনযাপন দর্শকদের নিয়ে যায় দেশের নানা প্রান্তের বাস্তবতার কাছে।
বরিশালে প্রথমবারের মতো চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনকে শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবে দেখছেন না নির্মাতা খন্দকার সুমন। তাঁর ভাষায়, এই আয়োজন বরিশালের চলচ্চিত্রচর্চায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। তিনি বলেন, বরিশালে আজ ইতিহাস তৈরি হলো। প্রথমবারের মতো বরিশালে চলচ্চিত্র উৎসব হচ্ছে। এ যেন সীমানা পেরিয়ে চলচ্চিত্রের মোহনায় এসে মিলিত হওয়া। বরিশালবাসী এবার শহরে বসেই দেখতে পারবেন উত্তরের প্রাণ-প্রকৃতির গল্প নিয়ে নির্মিত ‘সাঁতাও’ এবং হাওরের প্রান্তিক মানুষের জীবনকেন্দ্রিক নির্মাতা মুহাম্মদ কাইয়ুমের ‘কুড়া পক্ষীর শূন্যে উড়া’।
চলচ্চিত্র উৎসবের মধ্য দিয়ে দেশের চলচ্চিত্রচর্চাকে রাজধানীকেন্দ্রিকতার বাইরে আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনাও দেখছেন আয়োজকেরা। বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরউল্লাহ বলেন, আয়োজনের নাম এখন ‘বরিশাল চলচ্চিত্র উৎসব’ হলেও দর্শকের আগ্রহ ও আয়োজকদের ব্যবস্থাপনা দেখে এটি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসর পেতে পারে।

ফিচার ডেস্ক