বিশ্বে ১০০ জনে তিনজন শিশু অটিজমে আক্রান্ত
বিশ্বে আগে যেখানে শতকরা ১ দশমিক ৭ জন শিশু অটিজমে আক্রান্ত ছিল বর্তমানে এই সংখ্যা তিনজনে উন্নীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিএমইউ’র গবেষক ও চিকিৎসকগণ। বর্তমানে তাই এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলেও মনে করছেন তারা।
আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, দেশে ২০১৪ সালের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রতি দশ হাজারে ১৭ জন শিশু অটিজমে আক্রান্ত। বক্তারা গর্ভবতী অবস্থাতেই মা ও অনাগত নবজাতকের যত্ন ও চিকিৎসার উপর গুরুত্ব দেন। আগে ভাগে রোগ নির্ণয় সঠিক ব্যবস্থাপনা, শিশুদের মানসিক বিকাশে সহায়তা, অটিজম আক্রান্তদের শিক্ষা ও সামাজিকভাবে পুনর্বাসন, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি শিশুদের একাকিত্ব দূরীকরণ, গণমাধ্যমের প্রচার প্রচারণামূলক কার্যক্রম ইত্যাদি জোরদারের তাগিদ দেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এবারে দিবসটির প্রতিপাদ্য হল- ‘অটিজম ও মানবতা-প্রতিটি জীবনেরই মূল্য আছে’।
জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত এই দিনটি এই কথা স্মরণ করিয়ে দেয় যে, শুধু সচেতনতা নয় আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত স্বীকৃতি, অন্তর্ভুক্তি ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ। ২০২৬ সালের এই প্রতিপাদ্যে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নিউরো-ইনক্লুসিভ (সবার জন্য গ্রহণযোগ্য) পরিবেশ গড়ে তোলার বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে। অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিরা যেন সম্মান, অধিকার ও সমান সুযোগ পায়, সেটিই এই দিনের মূল বার্তা। এই দিবসটি শেখায়, প্রতিটি মানুষই অনন্য ও মূল্যবান। অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়; বরং এটি ভিন্ন এক সক্ষমতা, যা সঠিক সহায়তা ও ভালোবাসা পেলে সমাজের জন্য ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে। বিশ্বজুড়ে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে এই দিনে সচেতনতা বৃদ্ধি, বৈষম্য দূরীকরণ ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে বিএমইউ’র প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, ইনস্টিটিউট অব প্যাডিয়াট্রিক নিউরো ডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজম (ইপনা) এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. সৈয়দা তাবাসসুম আলম, শিশু নিউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. কানিজ ফাতেমা, শিশু নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. গোপেন কুমার কুন্ডু, সহযোগী অধ্যাপক ডা. আশরাফুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক ডা. বিকাশ চন্দ্র পাল, সহকারী অধ্যাপক ডা. সানজিদা আহমেদ, সহকারী অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস প্রমুখসহ শিশু নিউরোলজি বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক, ছাত্রছাত্রী ইপনার চিকিৎসক, কর্মকর্তাবৃন্দ, মনোবিজ্ঞানী, নিউট্রিশনিস্ট, চাইল্ড ডেভলপমেন্ট থেরাপিস্ট, কাউন্সিলর ইন্সট্রাক্টর, অটিজম স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক