স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেঙ্গু সচেতনতা শোভাযাত্রা, হাসপাতাল চত্বরেই নোংরা পরিবেশ
বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় যশোরের কেশবপুরে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল শনিবার (৬ জুন) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তবে সচেতনতার এই উদ্যোগের সমান্তরালে খোদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেরই অভ্যন্তরীণ অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
‘আঙিনা পরিষ্কার রাখি, সবাই মিলে সুস্থ থাকি’ -এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এদিন সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক স্লোগানসংবলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। পরে জনসাধারণের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেটও বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রেকসোনা খাতুন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, এর জন্য সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। নিজেদের বাড়িঘর, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখলে এডিস মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। পরিচ্ছন্ন পরিবেশই সুস্থ সমাজ গঠনের পূর্বশর্ত। একই সাথে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেশকাতুল ইসলাম, কেশবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শহিদুল ইসলাম এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রেহনেওয়াজ বলেন, ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ যা এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। অধিকাংশ রোগী বিশ্রামে সুস্থ হলেও ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বর ও ডেঙ্গু শক সিনড্রোম মারাত্মক রূপ নিতে পারে। তাই প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা। তিনি বাড়ির ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ড্রাম, বালতি বা ডাবের খোসার মতো পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তবে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা শেষে এক ভিন্ন চিত্রের মুখোমুখি হন উপস্থিত অতিথিরা। সচেতনতামূলক কার্যক্রম শেষে অতিথিরা যখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান, তখন হাসপাতালের পেছনের অংশে ব্যবহৃত ডায়াপারসহ বিভিন্ন মেডিকেল বর্জ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। খোলা জায়গায় ফেলে রাখা এসব বর্জ্য থেকে একদিকে যেমন তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল, অন্যদিকে তা এডিস মশার প্রজননের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে বলে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। এছাড়া হাসপাতালের ভেতরের কয়েকটি ড্রেনও অপরিষ্কার এবং আবর্জনায় ভরাট অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
হাসপাতালে আসা এক রোগীর স্বজন রাবেয়া খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আজকে বড় বড় স্যারেরা এসে ডেঙ্গু নিয়ে অনেক বড় কথা বলে গেলেন, লিফলেট দিলেন। কিন্তু হাসপাতালের পেছনের দিকে গিয়ে দেখেন, পা ফেলার জায়গা নেই। নোংরা ডায়াপার আর ময়লা-আবর্জনা এমনভাবে ছিটানো, দেখলেই বমি আসে। আমরা সুস্থ হতে হাসপাতালে আসি, কিন্তু এখানকার যে পরিবেশ, তাতে ভালো মানুষ উল্টো ডেঙ্গু নিয়ে বাড়ি ফিরবে।
একই সুরে স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী বলেন, বাইরে মাইকিং করে আর ব্যানার ধরে ছবি তুলে কী লাভ, যদি নিজেদের ঘরের ভেতরেই মশার কারখানা থাকে? লোক দেখানো র্যালি করার চেয়ে হাসপাতালের ময়লাটা আগে পরিষ্কার করলে মানুষের বেশি উপকার হতো।

ইনামুল হাসান, যশোর (মনিরামপুর-কেশবপুর)