আনুশকা-বিরাটের ২১ দিনের সম্পর্কের রসায়ন
গ্ল্যামার জগতের আড়ম্বর আর সফল ক্যারিয়ারের অন্তরালে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভক্তদের কৌতূহলের শেষ নেই। বাইরে থেকে সেলিব্রিটি দম্পতিদের জীবনকে যতটা রূপকথার মতো নিখুঁত মনে হয়, পর্দার পেছনের বাস্তব চিত্রটি সবসময় তেমন হয় না।
ক্যারিয়ারের তুমুল ব্যস্ততা, শিডিউলের চাপ আর মাইলের পর মাইল দূরত্বে থেকেও কীভাবে ভালোবাসার সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা যায়, তার এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন জনপ্রিয় তারকা জুটি আনুশকা শর্মা ও বিরাট কোহলি। কর্মব্যস্ততার ফাঁকে মাত্র ২১ দিন একসঙ্গে কাটিয়ে তাঁরা প্রমাণ করেছেন যে, ব্যস্ত দাম্পত্য জীবনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একসঙ্গে কাটানো বড় কথা নয়, বরং প্রিয় মানুষের সঙ্গে কাটানো ছোট ছোট মুহূর্ত ও মানসিক সংযোগই সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখার আসল চাবিকাঠি।
বিয়ের প্রথম ৬ মাসে মাত্র ২১ দিন একসঙ্গে!
একুশ দিন! আনুশকা শর্মা একবার হিসাব করে দেখেছিলেন যে, তাঁদের বিয়ের প্রথম ছয় মাসে তিনি ও বিরাট কোহলি সবমিলিয়ে মাত্র এই কয়টি দিন একসঙ্গে কাটাতে পেরেছিলেন। বাড়িতে কাটানো কোনো অলস ২১ দিন বা লম্বা ছুটির কোনো ধারাবাহিকতা ছিল না সেটি, বরং চলচ্চিত্রের শুটিং, ক্রিকেটের ম্যাচ, বিমানভ্রমণ এবং নানা পেশাগত ব্যস্ততার ফাঁকে কেবল কিছু মূল্যবান মুহূর্ত খুঁজে নেওয়া হয়েছিল। আর অনেক সময়, সেই দেখা করার অর্থও হতো কেবল একসঙ্গে বসে একটি মাত্র খাবার খাওয়ার সময় বের করা।
২০২০ সালে 'ভোগ ইন্ডিয়া' কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনুশকা বলেছিলেন, "মানুষের ধারণা আমি যখন বিরাটের সঙ্গে দেখা করতে যাই বা সে যখন আমার কাছে আসে, তখন বুঝি সেটা কোনো ছুটি বা অবকাশ যাপন, কিন্তু আদতে তা নয়। সবসময়েই আমাদের মধ্যে কেউ না কেউ কাজ করে যায়। আসলে আমাদের বিয়ের প্রথম ছয় মাসে আমরা মাত্র ২১ দিন একসঙ্গে কাটিয়েছিলাম। হ্যাঁ, আমি সত্যিই হিসাব করে দেখেছিলাম।"
এই তথ্যটি বেশ চমকপ্রদ, কারণ এটি একটি তারকা দম্পতির গ্ল্যামারাস জীবনকে একেবারে সাধারণ একটি রূপ দেয়- যেখানে দু’জন মানুষ নিজেদের ব্যস্ত সূচির ফাঁকে কেবল এক ঘণ্টা একসঙ্গে কাটানোর জন্য লড়াই করতেন।
একটিমাত্র খাবার খাওয়ার সময়টুকুই যখন সবচেয়ে দামি
আনুশকা জানিয়েছেন যে, তিনি যখন বিরাটের সঙ্গে দেখা করতে বিদেশে যেতেন, তখন সেটা সবসময় কোনো ছুটি কাটানোর উদ্দেশ্যে হতো না। কেবল তাঁর সঙ্গে একটি বেলা একসঙ্গে খাবার খাওয়ার সুযোগ পেতেই তিনি হয়তো ভ্রমণ করতেন।
"তাই যখন আমি তার কাছে বিদেশে যাই, উদ্দেশ্য থাকে একসঙ্গে ওই একটা মাত্র খাবার খাওয়ার সুযোগ করে নেওয়া। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান সময়," বলেন এই অভিনেত্রী।
সংখ্যাটির চেয়ে এই একটিমাত্র বাক্যই হয়তো ২১ দিনের হিসাবটিকে আরও ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলে। তাঁদের একসঙ্গে কাটানো সময় মানেই সারা দিন ফাঁকা থাকা ছিল না, বরং ব্যস্ত সূচির ফাঁকে ছোট্ট একটা সুযোগ বের করে সেই মুহূর্তটিকে অর্থবহ করে তোলার নামই ছিল একসঙ্গে থাকা।
সম্পর্কের আসল রসায়ন যেখানে
আনুশকা শর্মা এবং বিরাট কোহলি ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, যখন দুজনেই নিজ নিজ পেশায় শীর্ষস্থানে ও প্রচণ্ড ব্যস্ত ছিলেন। কোহলির পেশার সঙ্গে জড়িত ছিল অবিরাম ক্রিকেট সফর, আর আনুশকা ব্যস্ত ছিলেন সিনেমার সেট ও নানা পেশাগত প্রতিশ্রুতীতে।
স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ দম্পতিদের সঙ্গে একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার বা চলচ্চিত্র তারকার জীবনযাত্রার পুরোপুরি মিল না থাকলেও, মূল সমস্যাটি সবার জন্যই এক: দু’জন মানুষ একে অপরকে ভীষণ ভালোবাসলেও একসঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সময় কাটানোর জন্য তাঁদের প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয়।
সম্পর্ক বিষয়ক গবেষণায় বারবারই জোর দেওয়া হয়েছে একসঙ্গে কাটানো সময় এবং একে অপরের প্রতি সাড়া দেওয়ার ওপর কেবল কত ঘণ্টা একসঙ্গে কাটানো হলো তা বড় কথা নয়, বরং সেই সময়টি সঙ্গীকে শোনা, সংযুক্ত বোধ করা এবং মানসিকভাবে পাশে থাকার সুযোগ করে দিচ্ছে কিনা, সেটাই আসল।
আর ঠিক এ কারণেই একটি মাত্র খাবার খাওয়ার বিষয়ে আনুশকার সেই সাধারণ মন্তব্যটি এত বিশেষ হয়ে ওঠে। তিনি কোনো জাঁকজমকপূর্ণ ছুটি বা রাজকীয় রোমান্টিক উদযাপনের কথা বলেননি, তিনি কেবল একসঙ্গে বসে সাধারণ একটি খাবার ভাগ করে নেওয়ার কথা বলেছেন যা আধুনিক ও ব্যস্ত জীবনে আয়োজন করা কঠিন বলেই এতটা মূল্যবান হয়ে উঠেছে।

ফিচার ডেস্ক