‘এত দ্রুত জাতীয় দলে সুযোগ পাব ভাবিনি’
যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে চোট নিয়ে ৪৭ রানের দারুণ একটি ইনিংস খেলে নিজের প্রতিভার জানান দিয়েছিলেন পারভেজ হোসেন ইমন। মাঝে করোনার বিরতির কারণে মাঠে নামার সুযোগ হয়নি। তবে বিরতি কাটিয়ে ফিরেই নজর কেড়েছেন বাঁ-হাতি এই ওপেনার। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে দেশের সবচেয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছেন এই প্রতিভাবান ক্রিকেটার।
বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে আগ্রাসী মানসিকতা ও বড় শট খেলার সামর্থ্য দেখিয়ে এবার সুযোগ পেয়ে গেলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের প্রাথমিক স্কোয়াডে। প্রথমবার জাতীয় দলের স্কোয়াডে সুযোগ পেয়ে কিছুটা অবাক হলেন তিনি। এনটিভি অনলাইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানালেন, এত দ্রুত সুযোগ পেয়ে যাবেন সেটা ভাবতে পারেননি। তবে নিজের সেরাটা দিয়ে এই সুযোগ কাজে লাগাতে মুখিয়ে আছেন পারভেজ।
প্রশ্ন : প্রথমবার জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার অনুভূতি কেমন?
পারভেজ হোসেন ইমন : এটা অবশ্যই দারুণ অনুভূতি। আমি আসলে ভাবতে পারিনি আমার নাম আসবে। একটা অপ্রত্যাশিত সুখবর বলা চলে। এটার অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে হ্যাঁ অনেক ভালো লাগছে।
প্রশ্ন : খবরটা প্রথম কার কাছে শুনেছেন?
পারভেজ হোসেন ইমন : আমি প্রথমে আমাদের ফিজিওর কাছে থেকে খবরটা শুনেছিলাম। উনি আমাকে বলেছিলেন, হয়তোবা জাতীয় দলের ডাক পাওয়ার সুযোগ আসতে পারে। তখনই প্রথম শুনেছি। এরপর গতকাল (সোমবার) এক বড় ভাই বলতেছিল, প্রাথমিক দলে ডাক পেয়েছি। উনার কথায় প্রথমে আমি বিশ্বাস করতে পারিনি। যখন নিজে দেখলাম স্কোয়াড, তখন বিশ্বাস হলো যে সত্যিই ডাক পেয়েছি।
প্রশ্ন : পরিবারের মানুষদের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?
পারভেজ হোসেন ইমন : পরিবারের সবাই অনেক খুশি হয়েছে। মা-বাবা, ভাইয়া সবার চোখে অনেক আনন্দ। মা বলেছেন, যা হয়েছে এখন নতুন চ্যালেঞ্জের জন্য তৈরি হতে হবে। সামনের দিকে আরো ভালো করতে হবে। কীভাবে, কী করতে হবে, সব বুঝতে হবে। আমাকে অনেক আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন। উনারা ভালো কিছু প্রত্যাশা করেছেন। যেন আমি, নিজেকে এগিয়ে নিতে পারি।
প্রশ্ন : বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে সিনিয়রদের সঙ্গে ড্রেসিং রুম শেয়ার করেছেন ওই অভিজ্ঞতা কতটা কাজে লাগবে?
পারভেজ হোসেন ইমন : এ ব্যাপারটা আমার জন্য ভালো ছিল। ড্রেসিং রুমের পরিবেশ, সিনিয়রদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, সবার সঙ্গে সবকিছু শেয়ার করতে পেরেছি। এটা আমার জন্য ভালো কাজে দেবে। আশা করি এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে।
প্রশ্ন : বঙ্গবন্ধু কাপে রেকর্ড গড়ে সেঞ্চুরি করেছেন, আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে সবার নজরে ছিলেন–নতুন যাত্রায় সেসব কতটা কাজে দেবে?
পারভেজ হোসেন ইমন : ওই সেঞ্চুরিটা আমাকে অনেক আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। রেকর্ড হওয়ার ব্যাপারটা ভাবলে ভালো লাগে। তবে এখন আর ওইটা নিয়ে ভাবলে হবে না। সামনে যদি নতুন সুযোগ আসে সেসব কাজে লাগাতে হবে। ভালো করতে হবে। নিজের কোথায় কোথায় ভুল হচ্ছে সেসব বের করতে হবে এবং ভুলগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে।
প্রশ্ন : অনুর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে বড় মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতা আছে, এবার মূল দলের হয়ে চ্যালেঞ্জ নিতে হবে, কোনো চাপ মনে হচ্ছে কি না?
পারভেজ হোসেন ইমন : নাহ, আমার কাছে কোনো চাপ কখনোই অনুভব হয়নি। চাপ নিলে আসলে নিজেরই বিপদ। চাপ দূরে রেখে নিজের খেলাটা খেলার চেষ্টা করি। যতটা পারি নির্ভার থাকার চেষ্টা করি।
প্রশ্ন : এত দ্রুত সুযোগ আসবে আশা করেছিলেন কি?
পারভেজ হোসেন ইমন : এটা সত্যি যে, এত দ্রুত আমি এটা আশা করিনি। এত দিন পর খেলা ফিরছে তার উপর নিজে একটা সুযোগ পেয়ে গেলাম। এটা আসলে আমার কাছে বড় পাওয়া।
প্রশ্ন : ব্যাটসম্যান হিসেবে অনুপ্রেরণায় কাকে দেখেন?
পারভেজ হোসেন ইমন : আমার কাছে তামিম ভাইয়ার ব্যাটিং খুব ভালো লাগে। উনার খেলা দেখে উপভোগ করি। তবে আমি অন্য কাউকে অনুসরণ করি না। আমি নিজের মতো নিজেকে তৈরি করব, সেটাই সবসময় চেষ্টা করি। নিজের স্টাইল ফলো করি। তবে এটা ঠিক তামিম ভাইয়ার ব্যাটিং আমার বিশেষভাবে ভালো লাগে।
প্রশ্ন : ক্রিকেট ভক্তদের উদ্দেশে ঘরের মাঠে ক্রিকেট ফেরা নিয়ে কিছু বলুন?
পারভেজ হোসেন ইমন : করোনা বিরতি কাটিয়ে অনেক দিন পর ঘরের মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরছে, এটাই সবচেয়ে ভালো লাগছে। সেই সঙ্গে নিজের সুযোগটাও বড় ব্যাপার। সামনে প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে চোখ রাখছি, ফিটনেসও ঠিক রাখতে হবে। সবাইকে বলব, আপনারা মাঠে না আসতে পারলেও সবাই দোয়া করবেন। যাতে ক্রিকেটটা এবার নিয়মিত হতে পারে। সব দুর্যোগ কাটিয়ে আপনারাও যেন গ্যালারিতে ক্রিকেটারদের উৎসাহ দিতে পারেন। সবাই ক্রিকেটের সঙ্গে থাকবেন আশা করি।

হিমু আক্তার