কাটার-ইয়র্কার নিয়ে আইপিএলে আরেক মুস্তাফিজ
তাঁরও মূল অস্ত্র কাটার আর ইয়র্কার। গতিটাও মুস্তাফিজের মতো। চেহারার সারল্যেও বাংলাদেশের স্পিড সেনসেশনের সঙ্গে ভালো মিল রয়েছে থাঙ্গারাসু নটরাজনের। সবচেয়ে বড় মিলটা বোধ হয় চরিত্রের। দুজনেই বাঁ হাতে বল করেন। স্লোয়ার-কাটার-ইয়র্কারে মুস্তাফিজ যেমন প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের গলদঘর্ম করে ছাড়েন, তামিলনাড়ুর এই বোলারও একই অস্ত্র ব্যবহারে করে ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটের আসরে সফলতা পেয়েছেন। আর এ কারণেই নটরাজনকে ভারতীয় ক্রিকেটের মুস্তাফিজ বলা হচ্ছে। বাংলাদেশের মুস্তাফিজের মতো নটরাজনও আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবার থেকে এসেছেন।
আইপিএলের এবারের আসরের সবচেয়ে বড় চমক হলেন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব দলে ডাক পাওয়া থাঙ্গারাসু নটরাজন। আইপিএল নিলামে তাঁর ভিত্তিমূল্য ছিল মাত্র ১০ লাখ রুপি। আগে থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল, দল পেতে পারেন নটরাজন। তবে তিন কোটি রুপিতে তাঁকে কোনো দল কিনবে, সেটা ভাবা বোধ হয় খানিকটা বাড়াবাড়ি ছিল। ১০ লাখ রুপি থেকে দাম উঠতে উঠতে শেষ পর্যন্ত তিন কোটি রুপিতে ঠেকল নটরাজনের দাম। আকাশছোঁয়া মূল্যে তামিলনাড়ুর এই পেসারকে দলে ভেড়াল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব।
২৫ বছর বয়সী তামিল এই পেসার মাত্র নয়টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন। পারফরম্যান্স যে একবারে আহামরি, তা কিন্তু নয়। ৩৩.৪৪ গড়ে ২৭টি উইকেট পেয়েছেন তিনি। টি-টোয়েন্টি খেলেছেন আরো কম, মাত্র পাঁচটি। উইকেট পেয়েছেন চারটি। তাহলে কেন তাঁকে এত চড়া দামে কিনল পাঞ্জাব?
১৪০ কিলোমিটার বেগে কোনো বোলার ওভারের ছয়টি বলই যদি নিখুঁত ইয়র্কার দেন, তাহলে তাঁকে নিয়ে ভাবতেই হবে আপনার। ক্রিকেট ইতিহাসে ইয়র্কার আবিষ্কার হওয়ার পর থেকে আজও ব্যাটসম্যানদের কাছে রহস্যের অপর নাম ইয়র্কার।
তামিলনাড়ু প্রিমিয়ার লিগে সাধারণ মানের দিন্দিগুল ড্রাগন্স দলকে সেমিফাইনালে নিয়ে যান নটরাজন। টুর্নামেন্টের সাত ম্যাচে নিয়েছেন ১০ উইকেট। সাধারণ মানে পারফরম্যান্স। তবে দলের প্রয়োজনে টানা ইয়র্কার মেরে দুটি ম্যাচে দলের নিশ্চিত পরাজয় এড়ান নটরাজন। তখন থেকেই আইপিএলের বিভিন্ন দলের নজরে আসেন তিনি।
আইপিএলের নিলামে রাজকীয় দাম উঠলেও থাঙ্গারাসু নটরাজনের জীবনটা কিন্তু খুবই কষ্টের। কুলি বাবার ছেলে তো কুলিই হবে, একটা সময় এটাই ভাবতেন নটরাজন। তবে ক্রিকেট বদলে দেয় তাঁর জীবন। ছোট থেকেই লুকিয়ে লুকিয়ে টেনিস বলের টুর্নামেন্ট খেলতে চলে যেতেন নটরাজন। এরপর স্থানীয় এক ক্লাবের হয়ে কিছুদিন খেলার পর ২০১৪-১৫ মৌসুমে রঞ্জি ট্রফির দলে ডাক পান। বাংলার বিরুদ্ধে অভিষেক হয় তাঁর। কিন্তু এরপরই বাদ পড়েন দল থেকে। তখন সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগও উঠে তাঁর বিরুদ্ধে। দ্রুতই অবশ্য অ্যাকশন শুধরে নেন নটরাজন। এরপর তামিলনাড়ু প্রিমিয়ার লিগে খেলে উত্থান ঘটে এই বোলারের। বাকিটা তো ইতিহাস। এখন আইপিএল খেলে ভারতীয় দলের দরজাটা খুলতে চান এই বোলার।

স্পোর্টস ডেস্ক