ঘূর্ণি উইকেটে ভারতকে ভোগালেন রেনশ-স্টার্ক
শুরু থেকেই অশ্বিন-জয়ন্তদের বল সাপের মতো বাঁক নিচ্ছে। উইকেটের ফাঁটা অংশে বল পড়ে অনেকবারই পরাস্ত হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ওপেনাররা। ভারতীয় স্পিনাররা রীতিমতো ঘোল খাইয়ে ছেড়েছেন ওয়ার্নার-রেনশদের। তবে কাজের কাজটি করেছেন উমেশ যাদব। ওয়ার্নারকে আউট করে উইকেট মুখের দরজাটা খুলেছিলেন এই পেসারই। অশ্বিন-জাদেজারা টার্ন ফেলেও উইকেট পাচ্ছিলেন না। ডেভিড ওয়ার্নার ও ম্যাট রেনশর উইকেট নিতে রীতিমতো গলদঘর্ম হতে হয় অশ্বিন-জাদেজাদের। ২৮তম ওভারে উমেশ যাদবের হাতে বল তুলে দেন কোহলি। দ্বিতীয় বলেই ওয়ার্নারকে বোল্ড করে দিয়ে উইকেট উৎসবের শুরুটা করেন যাদব। এরপর অশ্বিন, জাদেজা আর জয়ন্ত মিলে অজি ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ডটা ভেঙে দেন।
ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ম্যাথু ওয়েড ও রেনশ যখন জুটি বাঁধছিলেন, ঠিক সেই সময় আবার কোহলি ফিরিয়ে আনেন যাদবকে। ম্যাথু ওয়েডকে ফিরিয়ে দিয়ে অস্ট্রেলীয় ব্যাটিংয়ের ভিতটা ভেঙে দেন তিনি। স্টিফেন ও ক্যাফে ও নাথান লায়নকে আউট করে অজি লেজটা মুড়ে দেন যাদব। তবে শেষের দিক মিচেল স্টার্কের হাফ সেঞ্চুরিতে দিনটা নিজেদের করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ৯ উইকেটে ২৫৬ রান নিয়ে দিন শেষ করল অস্ট্রেলিয়া।
এর আগে পুনেতে টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে ভারতীয় স্পিনারদের সামনে নাকাল হতে থাকেন ওয়ার্নার-রেনশ। তবে উইকেট পাচ্ছিল না ভারত। বোলিং পরিবর্তন করে উমেশ যাদবকে আনলে ওয়ার্নারকে ফিরিয়ে দেন তিনি। দলের রান তখন ৮২। পেটের ব্যথায় রেনশ মাঠের বাইরে চলে এলে অধিনায়ক স্টিফেন স্মিথ ও শন মার্শ জুটি বাঁধেন। ২০ ওভারে মাত্র ৩৭ রান তোলা এই জুটি ভাঙেন জয়ন্ত যাদব। কোহলির ক্যাচ বানিয়ে মার্শকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান তিনি। এরপর ২২ রান করা পিটার হ্যান্ডসকম্বকে ফেরান জাদেজা।
অন্য প্রান্তে খুটির মতো দাঁড়িয়ে থাকা স্মিথকে ফেরান অশ্বিন। এরপর মিচেল মার্শকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন জাদেজা। এরপর দ্রুত উইকেট হারিয়ে এ সময় ২০৫ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে বসে অস্ট্রেলিয়া। দশম উইকেট জুটিতে জস হ্যাজেলেউডকে নিয়ে জুটি বাঁধেন মিচেল স্টার্ক। ভারতীয় বোলারদের বেদম পিটিয়ে ক্যারিয়ারের নবম অর্ধশতক তুলে নেন স্টার্ক। ৫৭ রানে অপরাজিত রয়েছেন স্টার্ক।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস : ৯৩ ওভারে ২৫৬/৭ (রেনশ ৬৮, স্টার্ক ৫৭ (অপ.), ওয়ার্নার ৩৮, স্টিভেন স্মিথ ২৭, হ্যান্ডসকম্ব ২২, শন মার্শ ১৬; যাদব ৪/৩২, অশ্বিন ২/৫৯, জাদেজা ২/৭৪)

স্পোর্টস ডেস্ক