শুভ জন্মদিন দুলিপ মেন্ডিস
শ্রীলঙ্কার টেস্ট স্ট্যাটাস-প্রাপ্তির সেটি তৃতীয় বছর। ১৯৮৫ সালে কপিল দেবের শক্তিশালী ভারত সফরে যায় ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটিতে। তাদের আতিথ্য দেওয়ার জন্য প্রস্তুত দুলিপ মেন্ডিসের অনভিজ্ঞ দলটি। প্রথম টেস্ট ড্র হওয়ার পর কলম্বোয় দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে যায় স্বাগতিকরা। ওপেনার অমল সিলভা হাঁকান শতক (১১১) আর রয় ডিয়াজ খেলেন ৯৫ রানের অসাধারণ ইনিংস। অধিনায়ক দুলিপ এবং রঞ্জন মাডুগালের অর্ধশতকে ভর করে ৩৮৫ রানে ইনিংস শেষ করে লঙ্কানরা। রামেশ রাতনায়েকে, সালিয়া আহাগামাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ২৪৪ রানে বেঁধে ফেলে কৃষ শ্রীকান্ত, মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন, মাহিন্দর অমরনাথদের। ১৪১ রানের লিডের সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে ২০৬ রান যোগ করে স্বাগতিকরা। ১৩ রানে অপরাজিত থেকে ইনিংস ঘোষণা দেন দলপতি দুলিপ। ৩৪৭ রানের টার্গেটের বিপরীতে ১৯৮ রানে ধসে যায় ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং দুর্গ। প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পায় শ্রীলঙ্কা। শুধু তাই নয়, প্রথম ম্যাচের পর ক্যান্ডিতে দ্বিতীয় টেস্টও ড্র করে ফেলে স্বাগতিকরা। দুলিপ মেন্ডিসের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ জিতে নেয়।
১৯৭১-৭২ মৌসুমে স্কুলজীবনেই প্রথম শ্রেণিতে অভিষেক। ১৯৭৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক। এরপর ৭৯ ম্যাচে ২৩.৪৯ গড়ে করেছেন এক হাজার ৫২৭ রান। ১৯৮২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার অভিষেক ম্যাচে অভিষেক হয় ৩০ বছর বয়সী দুলিপেরও। টেস্টেও দুলিপ ব্যাট করতেন ওয়ানডের আমেজে। অভিষেকের বছরেই ভারতের বিপক্ষে চেন্নাই টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১০৫ রান করতে এ ডানহাতি খেলেন মাত্র ১২৩টি বল। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য হিসেবি ব্যাট করে আবার ১০৫ রান করে ম্যাচটি ড্র করেন। দুই বছর পর লন্ডনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১১ চার এবং ৩ ছক্কায় ১১১ রান করেন ১৪৩ বলে। শেষ ইনিংসে ৯৭ বলে করেন ৯৪ রান। ৯টি চারের পাশাপাশি এবারও হাঁকান ৩টি ছক্কা।
দেশের হয়ে মোট ২৪ টেস্টে রান করেছেন ৩১.৬৪ গড়ে ১ হাজার ৩২৯। সেঞ্চুরি আছে ৪টি। ৮টি হাফ সেঞ্চুরির শেষটি করেছিলেন ১৯৮৮ সালে লর্ডসে নিজের বিদায়ী ইনিংসে। ১৯৯১ সালে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে বিদায় নেন প্রথম শ্রেণিতে ৬ হাজার ২৩৩ রান করা এ ব্যাটসম্যান।
পাঁচ বছর পর রানাতুঙ্গার শ্রীলঙ্কা তাদের একমাত্র বিশ্বকাপটি জিতলে আবার আলোচনায় আসেন দুলিপ। ব্যাট হাতে দেশকে এ গৌরব এনে দিতে না পরলেও টিম ম্যানেজার হিসেবে বিশ্বকাপটি ছুঁয়ে দেখেছেন। সে বছর তাঁকে দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মানজনক রাষ্ট্রীয় পদক দেশামানাইয়া (জাতির গর্ব) দেওয়া হয়। ২০১১ সালে সাঙ্গাকারা, মাহেলাদের প্রধান নির্বাচক ছিলেন। বর্তমানে ওমান জাতীয় দলের প্রধান কোচ।
১৯৫২ সালে কলম্বোয় জন্ম নেওয়া লঙ্কান ক্রিকেটের এ পথপ্রদর্শকের আজ ৬৫তম জন্মদিন। শুভ জন্মদিন অগ্রপথিক।

সায়েদুল মাহমুদ