অনিশ্চয়তায় চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ভবিষ্যৎ
একের পর এক তোলপাড় হয়েই চলেছে ক্রিকেটবিশ্বে। ওয়ানডে ক্রিকেটকে আরো জনপ্রিয় করে তোলার জন্য অনেক চিন্তাভাবনাই করছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ১৩টি দল নিয়ে নতুন একটি ওয়ানডে লিগ চালুর পরিকল্পনা ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থার। ২০১৯ সাল থেকে সত্যিই যদি এই লিগ চালু হয়, তাহলে বিদায়ঘণ্টা বাজতে পারে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির। ২০১৭ সালের পর ২০২১ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে চলছে ঘোর অনিশ্চয়তা।
দ্বিপক্ষীয় সিরিজগুলো আরো প্রাসঙ্গিক ও জনপ্রিয় করে তোলার উদ্দেশ্যে ১৩টি দল নিয়ে একটি ওয়ানডে লিগ চালুর পরিকল্পনা প্রায় পাকা করে ফেলেছে আইসিসি। তিন বছরব্যাপী এই লিগে একে অপরের সঙ্গে একটি করে ওয়ানডে সিরিজ খেলবে ১৩টি দল। শীর্ষ দুইয়ের প্লে-অফ লড়াই দিয়ে নির্ধারণ হবে ওয়ানডের সেরা দল। একই সঙ্গে প্রতি চার বছর পরপর থাকবে ওয়ানডে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপ। এরই মধ্যে আবার আলাদা করে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আয়োজনকে বাহুল্য বলেই মনে করছে আইসিসি।
আগামী ২৭ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া আইসিসির বার্ষিক সভায় আলোচনা হওয়ার কথা নতুন ওয়ানডে লিগ ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ভবিষ্যৎ নিয়ে। সত্যিই যদি ১৩ দলের ওয়ানডে লিগ পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে বিদায়ই জানাতে হবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিকে। সে ক্ষেত্রে ২০১৭ সালেই শেষবারের মতো দেখা যাবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির লড়াই।
সব সিদ্ধান্ত অবশ্য এককভাবে নিতে পারছে না আইসিসি। এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে সম্প্রচার বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক বিষয়-আশয়। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিকে বাদ দিতে গেলে সবার আগে এর সম্প্রচার স্বত্বের মালিক স্টার স্পোর্টসকে রাজি করাতে হবে আইসিসিকে। এরই মধ্যে দুবাইয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একটি বৈঠকও হয়ে গেছে বলে জানা গেছে ক্রিকইনফোর এক প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়েছে, যদি দুই বছর পরপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়, তাহলে আইসিসির প্রস্তাবে রাজি হতে পারে স্টার স্পোর্টস। এই পরিকল্পনাও যে আইসিসির আছে, সে কথা আগেই জানা গেছে। ২০১৬ সালের পর ২০১৮ সালেও যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের চিন্তাভাবনা চলছে, তা আগেই জানিয়েছিল ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা।
১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরু হয়েছিল আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির। প্রথম দুটি আসরে অবশ্য এ প্রতিযোগিতার নাম ছিল আইসিসি নকআউট ট্রফি। ২০০২ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে দুই বছরের বিরতিতে আয়োজিত হয়েছিল এ প্রতিযোগিতার তিনটি আসর। ২০০৯ সাল থেকে প্রতি চার বছর পরপর চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়। সে হিসেবে ২০১৩ সালের পর ২০১৭ সালে আবার দেখা যাবে ওয়ানডে ক্রিকেটের এই জনপ্রিয় প্রতিযোগিতা। আর এটিই হয়ে যেতে পারে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শেষ আসর।

স্পোর্টস ডেস্ক