ঢাকা টেস্ট
বড় লিড নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করল বাংলাদেশ
ঘটনাবহুল এক দিনের পর ৩৭৮ রানে এগিয়ে থেকে ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষ করল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছে মুশফিকের শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করার মধ্য দিয়ে। এরপর লিটনের সেঞ্চুরি ও তিনটি শতরানের জুটিতে নতুন রেকর্ড। সবশেষ তৃতীয় সেশনের শেষ ভাগে বাংলাদেশের স্পিারদের দাপট।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) টেস্টের দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনেই শেষ হয়েছে বাংলাদেশের ইনিংস। প্রথম ইনিংসে ১৪১.১ ওভারে ৪৭৬ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। এদিন ৬১.১ ওভারে ১৮৪ রান তুলেছে টাইগাররা। জবাবে ৩৮ ওভারে ৯৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে দিন শেষ করেছে আয়ারল্যান্ড।
বাংলাদেশকে অলআউট করে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে আইরিশ ওপেনার স্টার্লিং কিছুটা মারমুখী হয়েই ইনিংস শুরু করেন। কিন্তু তাকে বেশিক্ষণ উইকেটে থিতু হতে দেননি বাংলাদেশের পেসার খালেদ আহমেদ। ১০.৩ ওভারে স্টার্লিংকে এলবিডব্লিউ করে ফিরিয়েছেন খালেদ। ২৬ বলে ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৭ রান করেন স্টার্লিং।
দিনের শেষভাগে মিরপুরের পিচে বাংলাদেশের স্পিনাররা দাপট দেখানো শুরু করেন। যে কারণে আইরিশদের ৪১ রানের ওপেনিং জুটি ভাঙার পর দ্বিতীয় উইকেটের জুটিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি। ১৯ তম ওভারে দলীয় ৬৩ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় আইরিশরা।
দ্বিতীয় টেস্টে নিজের প্রথম ওভারেই হাসান মুরাদ ফেরান অ্যান্ডি বলবার্নিকে। স্লিপে নাজমুল হাসান শান্তর হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৬০ বলে ৩ চারে ২১ রান করেন এই আইরিশ ওপেনার।
এক ওভারের ব্যবধানে দলীয় ৭৯ ও ৮৪ রানে আরও দুই উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড। ২৬ তম ওভারের প্রথম বলে কেড কারমাইকেলকে এলবিডাব্লিউয়ে ফাঁদে ফেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৫১ বলে ২ চারে ১৭ রান করেছেন তিনি।
এক ওভার পরই কার্টিস ক্যামফারকে ফিরিয়ে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন মুরাদ। ৪ বল খেলে রানের খাতা খোলার আগেই বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরেন ক্যামফার।
স্কোরবোর্ডে আর ১০ রান যোগ করতে না করতেই তাইজুলের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হন হ্যারি টেক্টর। এলবিডাব্লিয়ের ফাঁদে পড়া টেক্টরের ব্যাট থেকে এসেছে ২ রান।
এর আগে দ্বিতয়ি দিনের সকালে বাংলাদেশে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা করে দারুন। দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় ওভারেই মুশফিক তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি। ক্যারিয়ারের শততম টেস্টে ব্যাট করতে নেমে শতরানের ইনিংস উপহার দিয়েছেন মি. ডিপেন্ডবল।
বিশ্বের ১১তম ক্রিকটোর হিসেবে শততম টেস্টে শতরানের ইনিংস খেলে তিনি। এতেই মুশফিক নাম লেখালেন গ্রিনিজ-মিঁয়াদাদ-স্মিথ-পন্টিংয়ের মতো কিংবদন্তিদের কাতারে।
কিন্তু শতরানের ইনিংস খেলার পর সেটিকে আর বেশিদূর টানতে পারেননি মুশফিক। দ্বিতীয় দিনের নবম ওভারেই হামিফ্রিসের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ফিরেছেন তিনি। ২১৪ বলে ৫ চারে ১০৬ রানে শেষ হয় মুশফিকের শততম টেস্টের প্রথম ইনিংস।
এরপর দ্বিতীয় সেশেনে লিটন-মিরাজের জুটি পার করে ১০০ রান। টেস্টে এই দুজন তৃতীয়বার শতরানের জুটি বাঁধলেন।
অভিষিক্ত গ্যাভিন হোয়ের করা ১৩০ তম ওভারের চতুর্থ বলে কারমাইকেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন মিরাজ। ১০৭ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৪৭ রান করেন তিনি। এতেই লিটনের সাথে ষষ্ঠ উইকেটে ১২৩ রানের জুটি ভাঙে মিরাজের।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে লিটন-মিরাজের শতরানের জুটি এই ইনিংসে বাংলাদেশের তৃতীয় শতরান পার করা জুটি। এতে নতুন এক রেকর্ড হয়েছে।
চতুর্থ,পঞ্চম ও ষষ্ঠ উইকেটে শতরানের জুটি গড়েছে বাংলাদেশ, যা বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে প্রথম। টেস্ট ইতিহাসে এক ইনিংসে চতুর্থ,পঞ্চম ও ষষ্ঠ উইকেটে শতরানের জুটি গড়ার ঘটনা এর আগেও দুবার ঘটেছে, ১৯৭৯ সালে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ২০২৩ সালে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে।
এছাড়া, টেস্টে তৃতীয়বার এক ইনিংসে তিনটি শতরানের জুটি গড়ল বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই রেকর্ডের দেখা পেয়েছিল টাইগাররা।
এরপর দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় পরের ওভারেই ফিরেছেন লিটনও। হামফ্রিসের বলে সুইপ খেলতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে পল স্টার্লিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন লিটন। ১৯২ বলে ৮ চার ও ৮ ছক্কায় ১২৮ রান করেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। এরপর তাইজুল ইসলামও হোয়ের গুগলিতে ১০ বলে ৪ রান করে দ্রতই ফিরেন।
বাংলাদেশর প্রথম ইনিংসের শেষদিকে ইবাদত হোসেন কিছুটা প্রচেষ্ট চালান। হোয়ের ওভারে এক ছক্কা ও তিন চারে ১৮ রান নেন ইবাদত হোসেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ২৪ বলে ১৮ রান করেই অপরাজিত ছিলেন তিনি।
শেষের দুই উইকেটে ২২ বলে এক চারে মুরাদ করেন ১১ রান আর খালেদ ১২ বলে করেন ৮ রান। বাংলাদেশের শেষ দুটি উইকেট তুলে নিয়েছেন অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ম্যাকব্রাইনের শিকার ৬ উইকেটে। টেস্ট ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার ৫ উইকেট তুলে নেন আইরিশ এই স্পিনার।
এর আগে গতকাল মিরপুরে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৯২ রান তুলে প্রথম দিন শেষ করে বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ৪৪ বলে ৩৫ রান ও মাহমুদুল হাসান জয় ফেরেন ৮৬ বলে ৩৪ রান করে। অধিনায়ক নাজমুল শান্ত উইকেটে থিতুই হতে পারেননি। ১১ বলে ৮ রানে ফেরেন তিনি। আর মুমিনুল হকের ব্যাট থেকে এসেছিল ১২৮ বলে ৬৩ রানের ইনিংস।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ১৪১.১ ওভারে ৪৭৬/১০ (জয় ৩৪, সাদমান ৩৫, মুমিনুল ৬৩, শান্ত ৮, মুশফিক ১০৬, লিটন ১২৮, মিরাজ ৪৭, তাইজুল ৪, মুরাদ ১১, ইবাদত ১৮*, খালেদ ৮; নেইল ১১-১-৪৭-০, ক্যামফার ১০-০-৩২-০, ম্যাকব্রাইন ৩৩.১-৩-১০৯-৬, হামফ্রিস ৫০-৫-১৫১-২, হোয় ৩৪-৩-১১৫-২, টেক্টর ৩-০-১০-০)
আয়ারল্যান্ড প্রথম ইনিংস : ৩৮ ওভারে ৯৮/৫ (বালবার্নি ২১, স্টার্লিং ২৭, কারমাইকেল ১৭, টেক্টর ১৪, ক্যাম্পার ০, টাকার ১১,* ডোহেনি ২*; ইবাদত ৫-১-১০-০, খালেদ ৬-০-৩০-১, তাইজুল ১৩-১-৩২-১, মুরাদ ১০-৩-১০-২, মিরাজ ৩-০-১১-১, মুমিনুল ১-১-০-০)

স্পোর্টস ডেস্ক