৪৮ ঘন্টার মধ্যে নাজমুল জবাব না দিলে কি করবে বিসিবি?
বিসিবি পরিচালক এম. নাজমুল ইসলামের এক বক্তব্যের জেরে দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে উত্তপ্ত একটি দিন গেল। ক্রিকেটার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (কোয়াব) ডাকে বিপিএল বয়কট করলেন ক্রিকেটাররা। বিসিবি থেকে নাজমুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়।
তবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও নাজমুল ইসলামের ঠিকানা জানে না বিসিবি। যে কারণে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না বোর্ড। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে কোয়াবের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানান বিসিবি পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু।
প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলেও পরে কোয়াবের দাবির মুখে আবার অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণ করা হয় নাজমুল ইসলামকে। এখন তার পুরো বিষয়টি নিয়ে গঠনতন্ত্র নেমেই এগাবে বিসিবি, বলে জানান ইফতেখার রহমান মিঠু।
মিঠু জানান, ‘যে পরিচালক ওসব মন্তব্য করেছিল, তাকে তার কমিটি (অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান) থেকে অপসারণ করা হয়েছে। আমরা তো গঠনতন্ত্রের অধীনে চলি। প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাকে শোকজ করা হয়েছে। তাকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। ১৭ তারিখ দুপুরে শেষ হবে (সময়), তার জবাব পেতে।’
নোটিশের জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী ধাপ কী সেটিও পরিষ্কার করে দেন মিঠু, ‘এরপর এটা ডিসিপ্লিনারি কমিটিতে যাবে। একদম গঠনতন্ত্রে লেখা আছে। ডিসিপ্লিনারি কমিটিতে যাবে এবং এই প্রক্রিয়াটি থাকবে।’
বিসিবি চেয়েছিল নাজমুলকে নিয়ে কোয়াবের সঙ্গে বৈঠকে বসতে। তবে তার সঙ্গে দিনভর চেষ্টা করেও যোগযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান মিঠু। তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে আমরা চেষ্টা করেছি উনার সঙ্গে সারাদিন যোগাযোগ করতে। আমরা চেয়েছিলাম (তাকে) আজকে এখানে আনার জন্য। কিন্তু উনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারা যায়নি।’
শেষ পর্যন্ত যদি এই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নাজমুল ইসলাম যোগযোগ না করেন কিংবা কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব না দেন, তাহলে নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান মিঠু। তিনি বলেন, ‘লাপাত্তা থাকলে… (জবাব) না দিলে, তার মানে আপনি জানেন… আদালতে যদি মামলা করা হয়, আপনি যদি হাজিরা না দেন, এটা ফল তো আমার ব্যাখ্যা করার দরকার নেই।’
ইতোমধ্যে নাজমুল ইসলামের বিষয়টি ডিসিপ্লিনারি কমিটিকে জানানো হয়েছে বলেও জানান মিঠু। তিনি বলেন, ‘আমাদের ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান হচ্ছে মিতু (ফায়াজুর রহমান)। তাদের সঙ্গেও আমরা কথা বলেছি। আমরা নিয়ম অনুসরণ করব। উনি জবাব না দিলে, এটার ফল তো উনাকে ভোগ করতে হবে।’
এই ‘ফল’ বলতে কি নাজমুলের অপসারণ বোঝানো হচ্ছে—এমন প্রশ্নে ইফতেখারের উত্তর ছিল সংক্ষিপ্ত, ‘হ্যাঁ।’
এর আগে গত বুধবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন বিসিবির অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না খেললে কতটা ক্ষতি হবে সেই প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি। বিসিবির এই পরিচালক বলেন, ‘বিসিবির হবে না, ক্রিকেটারদের ক্ষতি হবে। ক্রিকেটারদের ক্ষতি হবে, কারণ তারা খেললে ম্যাচ ফি পায়। ম্যাচ সেরা হলেও পায়, পারফরম্যান্স অনুযায়ী পায়। এটা শুধুই ক্রিকেটারের পাওয়া। বোর্ডের লাভ-ক্ষতি নেই। অন্তত এই বিশ্বকাপের জন্য।’
আশানুরূপ পারফর্ম না করলে ক্রিকেটারদের বেতন কাটা হয় না, তাহলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কোন যুক্তিতে? সাংবাদিকদের কাছে এই পাল্টা প্রশ্ন করে নাজমুল যোগ করেন, ‘কেন? ওরা গিয়ে যদি কিছুই না করতে পারে, আমরা যে ওদের পেছনে এত কোটি কোটি টাকা খরচ করছি, আমরা কি ঐ টাকা ফেরত চাচ্ছি না কি? চাচ্ছি? এই প্রশ্নের উত্তর দেন আমাকে।’
নাজমুলের এমন কথার পর বিবৃতি কোয়াব। রাতে ভার্চুয়াল মিটিংয়ে কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বলেন, ‘উনি যেভাবে আমাদের সব ক্রিকেটারদের নিয়ে মন্তব্য করেছেন এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তো উনি যদি আগামীকাল ম্যাচের আগে পদত্যাগ না করেন, তাহলে আমরা সব ধরনের ক্রিকেট বয়কট করব।’

স্পোর্টস ডেস্ক