দেশি ফুটবলাররা বলতো তাকে পাস দিও না–সিন্ডিকেট নিয়ে জামাল
ধুঁকতে থাকা দেশের ফুটবলে এখন প্রাণ ফিরে এসেছে। পেছনের কারণটা সবার জানা। প্রবাসী ফুটবলারদের আগমনেই বদলেছে দৃশ্যপট। হামজা চৌধুরী লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়ানোর পর একের পর এক প্রবাসী ফুটবলাররা বাংলাদেশে আসছেন। তাদের আগমনে উচ্ছ্বসিত দেশের ফুটবলপ্রেমীরা। কদিন আগেও যেখানে বিনে পয়সায় টিকিট দিলেও বাংলাদেশের ফুটবল ম্যাচ দেখার দর্শক পাওয়া যেত না, এখন সেখানে ১০ মিনিটেই বিক্রি হয়ে যায় পুরো ম্যাচের টিকিট।
দেশের ফুটবলের এই বসন্তের আকাশেও মাঝে মধ্যেই দেখা মেলে কালবৈশাখের ঘনকালো মেঘের। ঝড়ো বাতাসে নষ্ট করে দিতে চায় বসন্তের মনোরম পরিবেশ। কারণ, যে ফুটবলারদের আগমনে দেশের ফুটবলের বসন্ত, সেই প্রবাসী ফুটবলাররাই বৈষম্যের শিকার হন।
সিন্ডিকেটের থাবায় আশা হারিয়ে ফেলেন ফুটবলাররা। অভিযোগ আছে, দেশীয় ফুটবলাররা সিন্ডিকেট করেন প্রবাসী ফুটবলারদের বিপক্ষে। সুযোগ থাকলেও তাদের পাস দেন না। মাঠে সেভাবে বল দেন না তাদের। এর পেছনে দায়ী করা হয় স্থানীয় কোচদেরও।
বাংলাদেশে প্রবাসী ফুটবলারদের আগমনের যাত্রাটা শুরু হয় ডেনমার্ক প্রবাসী ফুটবলার জামাল ভূঁইয়াকে দিয়ে। তিনিই প্রথম ইউরোপের চাকচিক্যময় জীবন ছেড়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন ফুটবলের হাল ধরতে। তবে জামালের শুরুর গল্পটা ছিল অন্ধকারে ঢাকা। তিনিও শিকার হয়েছিলেন সিন্ডিকেটের। জামাল অবশ্য সেসবকে পাত্তা না দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন যোগ্য হিসেবে। যে কারণে আর সিন্ডিকেট তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। সম্প্রতি একটি পডকাস্টের আলোচনায় এমনই বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন জামাল।
বাংলাদেশের ফুটবলে শুরুর সেই অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে জামাল বলেন, ‘প্রথম যখন জাতীয় দলে এসেছিলাম তখনকার অনেক প্লেয়ার মনে করেছিল আমি বাংলা বুঝি না। মাঝেমধ্যে আমি শুনতাম তারা নিজেরা কথোপকথন করছে, উনার সাথে খেলো না, উনাকে পাস দিও না। যদিও এসব আমার ক্যারিয়ারের একদম শুরুর দিকের ঘটনা, এসব কিছুকে আমি একদম পাত্তা দেইনি । এরপর আমি নিজেকে আস্তে আস্তে প্রমাণ করেছি।’
সম্প্রতি সিন্ডিকেটের এই বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে সদ্য সমাপ্ত সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে। এই টুর্নামেন্ট দিয়ে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রোনান সুলিভানের। সুযোগ থাকার পরও তাকে পাস না দেওয়ার বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
এই প্রসঙ্গে আলোচনায় জামালের ভাষ্য, এখনও সিন্ডিকেট আছে। তবে আস্তে আস্তে চলে যাবে–‘সম্ভবত এটা (বৈষম্য) এখনও আছে। এটা সব সময়ই ছিল। তবে আস্তে আস্তে এটা চলে যাবে। সম্ভবত শুরুর দিকে এরকম হয় (বৈষম্য)।’
এসবের জন্য মিডিয়াকে দায়ী করেন জামাল। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এটার জন্য মিডিয়া দায়ী। কারণ মিডিয়া একটা বিদেশি খেলোয়াড় আসলে তাকে বেশি হাইলাইট করে। যে কারণে দেশি খেলোয়াড়রা মনে করে, তারা হাইলাইটের বাইরে চলে যাচ্ছে। দেশি ফুটবলাররা এই সময়টায় হীনমন্যতায় ভোগে। তারা মনে করে, সব আলো বিদেশিরা কেড়ে নিচ্ছে।’
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলও সিন্ডিকেট সংক্রান্ত আলোচনার বাইরে নয়। এখানকার অভিযোগ অবশ্য ভিন্ন। এখানে ফুটবলাররা নয়, কলকাঠি নাড়েন ম্যানেজম্যান্টের কেউ বা বাইরের কেউ। যার প্রমাণও দেখা গেছে জাতীয় দলের সর্বেশষ কোচ হাভিয়ের কাবরেরার সময়।
পারফরম্যান্স করেও মাঠে নামার সুযোগ হয়নি জামালের। এমনটি জামালকে সবাই মনে করে ‘সংবাদ সম্মেলনের অধিনায়ক।’ কাগজে-কলমে নেতৃত্বে তিনি, ম্যাচের আগের দিনও আসেন গণমাধ্যমের সামনে। অথচ, খেলা শুরু হলে তার ঠাঁই হয় সাইড বেঞ্চে।
জাতীয় দলের সিন্ডিকেট নিয়ে জামাল বলেন, ‘একজন প্লেয়ার হিসেবে আমি এটা দেখিনি। কারণ, আমি স্কোয়াডের ভেতরে আছি। কিন্তু আপনি যদি বাইরে দেখেন, তাহলে অবশ্যই হাভিয়ের কাবরেরা একই ফুটবলার খেলায়। আমি বলতে পারি না এসব, তবে সম্ভবত (সিন্ডিকেট) আছে।’

নাজমুল সাগর