সিরিজ বাঁচাতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ১৯৯ রান
টসের পর নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম লাথামের মনে হয়েছিল, আজকের উইকেট একটু ভিন্ন। লাথামের শঙ্কা সত্যি হয়েছে। ব্যাটারদের জন্য প্রথম ম্যাচের চেয়েও কঠিন আচরণ করেছে উইকেট। ফায়দা নিয়েছে বাংলাদেশের বোলাররা। নাহিদ রানাই একাই ধসিয়ে দিয়েছেন কিউইদের। তার ফাইফারে ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট হয়েছে সফরকারীরা।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড। হারলে হাতছাড়া হবে সিরিজ, বাংলাদেশকে তাই জিততে হবে। এমন অবস্থায় টসে হেরে বোলিংয়ে আসে স্বাগতিকরা।
বল হাতে শুরুটা ভালো হয়েছে বাংলাদেশের। নিউজিল্যান্ডের ওপেনিং জুটিকে থিতু হতে দেননি বোলাররা। অষ্টম ওভারে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন নাহিদ রানা। কিউই ওপেনার হেনরি নিকোলস ২৬ বলে ১৩ করে লেগবিফোর হন নাহিদের বলে।
২৫ রানে প্রথম উইকেট পতনের পর দ্রুতই দ্বিতীয় উইকেট হারায় সফরকারীরা। উইল ইয়ংকেও সাজঘরের পথ দেখান নাহিদ। নাহিদের প্রায় ১৪৭ কিলোমিটার গতির বাউন্সারে পরাস্ত হয়ে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ তুলে দেন ইয়ং। ৭ বলে ২ করে ইয়ং ফিরলে ২৮ রানে ২ উইকেটে পরিণত হয় কিউইরা।
দুই উইকেট হারিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টায় ছিলেন নিউজিল্যান্ডের ওপেনার টম লাথাম আর নিক কেলি। দেখেশুনে খেলে তৃতীয় উইকেটে ৫০ বলে ২৪ রানের জুটি গড়েছিলেন তারা। সেই জুটি ভয়ঙ্কর হওয়ার আগেই ভেঙে দিয়েছেন সৌম্য। ১৮তম ওভারে সৌম্যর স্টাম্পে পড়া বল বেরিয়ে যাওয়ার পথে বাঁহাতি ল্যাথামে ব্যাটে লেগে পেছনে যায়। লিটন সামনে হাত বাড়িয়ে নিচু হয়ে বল গ্লাভসবন্দি করেন। আম্পায়ার কয়েকবার রিপ্লে দেখে আউটের সিদ্ধান্ত দেন।
দ্বিতীয় স্পেলে বোলিংয়ে আবার শিকার নাহিদের। টাইগার পেসারের গতিময় বাউন্সারে পরাস্ত হন মোহাম্মদ আব্বাস। আব্বাস ফেরেন ৩৪ বলে ১৯ রান করে। একপ্রান্ত আগলে রেখে বাংলাদেশের মাথা ব্যথ্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন নিক কেলি। হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে সেঞ্চুরির দিকে ছুটছিলেন তিনি। আর বেশি যেতে দেননি শরিফুল ইসলাম। বাংলাদেশের পথে কাটা সরিয়েছেন বাঁহাতি পেসার।
৩৭তম ওভারে শরিফুলকে তুলে মারতে গিয়ে মিড উইকেটে তাওহিদ হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন কেলি। এতে থেমেছে এই কিউই ওপেনারের ১০২ বলে ৮৩ রানের ইনিংস। পরের ওভারে বোলিংয়ে এসে কিউই শিবিরে আঘাত হানেন রিশাদ।
নয় নম্বরে নেমে দ্রুত বাড়ানোর চেষ্টা করছিলেন ব্লেয়ার টিকনার। তাকেও বেশি দূর যেতে দেননি শরিফুল ইসলাম। ১১ বলে ১২ রান করে আফিফ হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। পরের ওভারে বোলিংয়ে এসে আবারও উইকেট তুলে নেন নাহিদ। পূর্ণ করেন ফাইফার।
বাংলাদেশের পক্ষে ৩২ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন নাহিদ। শরিফুল দুটি এবং রিশাদ, তাসকিন ও সৌম্য পান একটি করে উইকেট।
কিউইরা থেমেছে ২০০ রানের আগে। বোলাররা নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করেছেন। মান বাঁচাতে হাল ধরতে হবে ব্যাটারদের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড : ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮/১০ (নিকোলস ১৩, কেলি ৮৩, ইয়ং ২, লাথাম ১৪, আব্বাস ১৯, ফক্সক্রফট ১৫, ক্লার্কসন ৬, টিকনার ১২, লিনক্স ০, ও’রুর্ক ৬, স্মিথ ১৮*; তাসকিন ৯.৪-১-৪৬-১, শরিফুল ১০-১-৩২-২, নাহিদ ১০-১-৩২-৫, সৌম্য ৪-০-২৭-১, মিরাজ ১০-০-৩৮-০, রিশাদ ৫-০-২১-১

ক্রীড়া প্রতিবেদক