‘ফ্যান্টাস্টিক...ফ্যাবুলাস উইন, ইউ নেম ইট!’
‘ফ্যান্টাস্টিক...ফ্যাবুলাস উইন, ইউ নেম ইট!’ সিলেট টেস্টে পাকিস্তানকে হারানোর পর ঠিক এই কথাগুলোই বলছিলেন ধারাভাষ্যকার আতাহার আলী খান। তার কণ্ঠে ছিল আবেগের বহিঃপ্রকাশ। আর সেটা হবে নাই বা কেনো? এতো এক ঐতিহাসিক, অদম্য জয়ের কীর্তি বাংলাদেশের।
কি ঘরের মাটিতে, আর কি বিদেশের মাটিতে– পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের পরিসংখ্যান বলার মতো না। এর আগে ১৫ টেস্টে বাংলাদেশের সাফল্য কেবলই দুটি জয় আর একটি ড্র। জয় দুটিও এসেছিল ২০২৪ সালে। বিপরীতে, পাকিস্তান জিতেছে ১২টি ম্যাচ।
সেই দলকেই কি না, টানা দুই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতেই হোয়াইট ওয়াশ করে এসেছিল টাইগাররা। এরপর সদ্য সমাপ্ত সিরিজে ঢাকা টেস্টে হারানোর মধ্য দিয়ে প্রথমবার ঘরের মাটিতে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর সিলেট টেস্টে হারিয়ে প্রথমবার ঘরের মাটিতে হোয়াইটওয়াশ করার রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ।
রেকর্ড আছে আরও। এই প্রথম টেস্টে কোনো দলকে টানা দুই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ। একই সঙ্গে কোনো দলের বিপক্ষে টেস্টে টানা চারটি জয়ও প্রথম বাংলাদেশের।
সিলেট টেস্টে জিততে হলে রেকর্ড গড়তে হতো পাকিস্তানকে। প্রায় দেড়শ বছরের টেস্ট ইতিহাসে ৪১৮ রানের বেশি তাড়া করে জিততে পারেনি কোনো দল। পাকিস্তানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৭৭ রান তাড়া করার কীর্তি আছে। ২০১৫ সালে পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিতেছিল তারা। বাংলাদেশের মাটিতে সর্বোচ্চ ৩৯৫ রান তাড়া করার রেকর্ড আছে। ২০২১ সালে চট্টগ্রামে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
বাংলাদেশের পথের কাঁটা হয়ে ছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। পুরো টেস্টে কোনো উইকেট না পাওয়া শরিফুল ইসলাম যেনো অপেক্ষায় ছিলেন মোক্ষম সময়ের। রিজওয়ানকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের সব প্রতিরোধ ভেঙে দিলেন তিনি।
পরের ওভারে এসে পাকিস্তানের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন তাইজুল। শেষ ব্যাটার হিসেবে খুররাম শেহজাদ ক্যাচ দেন তানজিদ হাসান তামিমের হাতে। এরপরই ঐতিহাসিক জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠে বাংলাদেশ।

স্পোর্টস ডেস্ক