স্পেনের সব শট থেমে গেল ভোজিনহার দুর্ভেদ্য দেয়ালে
চল্লিশে চালশে ফুটবল দুনিয়ার পুরোনো সেই কথাটাকেই যেন তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেন ভোজিনহা। বয়স যেখানে থামিয়ে দেয় গতি, সেখানে তিনি হয়ে উঠলেন প্রতিরোধের প্রতীক। ২০১০ বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে কেপ ভার্দের এই ৪০ বছর বয়সী গোলকিপার স্পেনের সব আক্রমণ থামিয়ে দিলেন একাই গোলপোস্টের নিচে এক অদৃশ্য দুর্গ হয়ে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে কেপ ভার্দের মতো ছোট দেশের নাম খুব বেশি আলোচনায় ছিল না। কিন্তু ম্যাচ শেষে স্কোরলাইন বলল ভিন্ন গল্প, ০-০ ড্র। আর এই অঘটনের কেন্দ্রে ছিলেন ভোজিনহা।
পুরো ম্যাচজুড়ে স্পেন আক্রমণের পর আক্রমণ সাজিয়েছে। দ্রুত পাস, ধারালো মুভ আর জোরালো শটে কেপ ভার্দের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা করেছে তারা। কিন্তু গোলপোস্টের নিচে ভোজিনহা ছিলেন অটল। পরিসংখ্যান বলছে, স্পেন মোট ২৭টি শট নেয়, যার মধ্যে ৯টি ছিল লক্ষ্যে। সেই সবকটিই ঠেকিয়ে দেন একাই এই অভিজ্ঞ গোলকিপার।
প্রথমার্ধেই তার পারফরম্যান্স ছিল চোখধাঁধানো। ৩৮ মিনিটে পেদ্রির শক্তিশালী শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন তিনি। প্রতিটি সেভে স্পেনের আক্রমণ যেন থমকে যাচ্ছিল আর কেপ ভার্দের স্বপ্ন ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছিল বাস্তবতায়।
জোসিমার জোসে আভোরা ডিয়াজ নামের এই গোলকিপারই ফুটবল বিশ্বে পরিচিত ভোজিনহা নামে। প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি কেপ ভার্দের জার্সি গায়ে মাঠে নামছেন। ক্যারিয়ারের বড় অংশ কেটেছে সাইপ্রাস ও অ্যাঙ্গোলার মতো দেশের কম আলোচিত লিগে খেলে। যেখানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া প্রায় অসম্ভব।
বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত হওয়ার পর বয়সের কথা ভেবে জাতীয় দলকে বিদায় জানাতে চেয়েছিলেন ভোজিনহা। কিন্তু সতীর্থদের অনুরোধে থেকে যান শেষবারের মতো দেশের হয়ে লড়ার জন্য। আর সেই শেষ অধ্যায়ের শুরুতেই লিখে ফেললেন এক অবিশ্বাস্য গল্প।
ফুটবলে কখনো কখনো নায়ক তৈরি হয় না গোল দিয়ে, তৈরি হয় প্রতিরোধ দিয়ে। ভোজিনহার সেই রাত তেমনই এক প্রতিরোধের নাম চল্লিশে চালশে। যেখানে গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক জীবন্ত দুর্গ।

স্পোর্টস ডেস্ক