বাঁচা-মরার লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডের সামনে বসনিয়া
প্রথম ম্যাচে জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত হতাশ হতে হয়েছে দুই দলকেই। তাই ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে লস অ্যাঞ্জেলেসে আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় সুইজারল্যান্ড ও বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ম্যাচটি হয়ে উঠেছে দুই দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নকআউট পর্বে ওঠার আশা জিইয়ে রাখতে এই ম্যাচে তিন পয়েন্টের বিকল্প নেই।
প্রথম ম্যাচে কাতারের বিপক্ষে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এগিয়ে ছিল সুইজারল্যান্ড। কিন্তু যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে গোল হজম করে ১–১ ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় মুরাত ইয়াকিনের দলকে। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে এটি সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে সবচেয়ে দেরিতে হজম করা সমতাসূচক গোলগুলোর একটি।
তবে সেই ম্যাচে আক্রমণাত্মক ফুটবলের ছাপ রেখেছিল সুইজারল্যান্ড। তারা ২৬টি শট নিয়েছিল। যা বিশ্বকাপে এক ম্যাচে তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ। মাঠে নামা ১৬ জনের মধ্যে ১৪ জনই হয় শট নিয়েছেন, নয়তো গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বদলি হিসেবে নামা মিরো মুহেইমের আত্মঘাতী গোলেই সমতা ফেরায় কাতার। ফলে দলটির পারফরম্যান্স নিয়ে সুইস সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
তবু পরিসংখ্যানে এগিয়ে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। ২৫ হাজার সম্ভাব্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তাদের জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ৬১.৮ শতাংশ। অন্যদিকে, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার জয়ের সম্ভাবনা ১৭.২ শতাংশ, আর ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ২১.১ শতাংশ। বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে নিজেদের শেষ ১৭টি গ্রুপ ম্যাচে সুইজারল্যান্ড মাত্র দুটিতে হেরেছে। জিতেছে সাতটি এবং ড্র করেছে আটটি।
প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ড ৫২৭টি পাস সম্পন্ন করে, যা গ্রুপের চার দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। তাদের পাস সফলতার হার ছিল ৯১.৫ শতাংশ। বিপরীতে, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা মাত্র ১৭২টি পাস সম্পন্ন করেছে, সফলতার হার ছিল ৬৩.৫ শতাংশ। ফলে বলের দখল ও পাসিংনির্ভর সুইস ফুটবলের বিপক্ষে সরাসরি আক্রমণভিত্তিক বসনিয়ার কৌশলের লড়াই দেখার অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।
অন্যদিকে, প্রথম ম্যাচে কানাডার বিপক্ষেও জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। পুরোপুরি ফিট না থাকায় এদিন জেকোর বদলে একাদশে সুযোগ পান জোভো লুকিচ। জাতীয় দলের হয়ে মাত্র চতুর্থ ম্যাচে নিজের প্রথম গোলও করেন তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত স্বাগতিক কানাডা সমতা ফিরিয়ে আনে।
সের্গেই বারবারেজের দল সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ছন্দে রয়েছে। শেষ ১২টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে তারা মাত্র একবার হেরেছে। এই সময়ে পাঁচটি জয় ও ছয়টি ড্র হয়েছে। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয়, সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বসনিয়ার শেষ ছয়টি ম্যাচই ড্র হয়েছে। এবারও হার এড়াতে পারলে স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত থাকার নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়বে তারা।
সুইজারল্যান্ডের আক্রমণের প্রধান ভরসা ব্রিল এমবোলো। কাতারের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করার পর জাতীয় দলের হয়ে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫। এর মধ্যে শেষ ১৩ ম্যাচেই এসেছে ১০টি গোল। অভিজ্ঞ রিকার্দো রদ্রিগেজ ও অধিনায়ক গ্রানিত জাকা এবার নিজেদের সপ্তম বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলছেন।
অন্যদিকে, ৪০ বছর বয়সী অধিনায়ক এদিন জেকো এখনও বসনিয়ার সবচেয়ে বড় নির্ভরতার নাম। তরুণ কেরিম আলাইবেগোভিচও শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।
বিশ্বকাপে এই প্রথমবার মুখোমুখি হচ্ছে সুইজারল্যান্ড ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। দুই দলের একমাত্র আগের সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০১৬ সালে জুরিখে একটি প্রীতি ম্যাচে। সেদিন জেকো ও মিরালেম পিয়ানিচের গোলে ২–০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল বসনিয়া।
পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচটি গোলসমৃদ্ধও হতে পারে। ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের শেষ পাঁচ ম্যাচে মোট ২৩টি গোল হয়েছে। ম্যাচপ্রতি গড় ৪.৬ গোল।
কাগজেকলমে সুইজারল্যান্ড এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে হারতে ভুলে যাওয়া বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা আরেকটি চমক দেখাতে মুখিয়ে থাকবে। ফলে গ্রুপ পর্বের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই হওয়ার সব উপকরণই রয়েছে এই ম্যাচে।
দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ
সুইজারল্যান্ড: গ্রেগর কোবেল, সিলভান উইডমার, নিকো এলভেদি, ম্যানুয়েল আকাঞ্জি, রিকার্দো রদ্রিগেজ, রেমো ফ্রয়েলার, গ্রানিত জাকা, দান এনদোয়ে, মিশেল এবিশার, রুবিন ভার্গাস, ব্রিল এমবোলো।
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা: নিকোলা ভাসিল, আমার দেদিচ, তারিক মুহারেমোভিচ, দেনিস হাজদিকাদুনিচ, সেয়াদ কোলাশিনাচ, বেঞ্জামিন তাহিরোভিচ, আরমিন গিগোভিচ, এসমির বাইরাকতারেভিচ, আমির হাজদিয়াহমেতোভিচ, এরমেদিন দেমিরোভিচ, এদিন জেকো।

স্পোর্টস ডেস্ক