বিশ্বকাপে নতুন কৌশলে হাঁটছে ব্রাজিল
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে আজ স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল। মায়ামির প্রচণ্ড গরমে খেলা নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলেও, মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে বিশেষ কৌশলে প্রস্তুতি সেরেছে সেলেসাওরা। প্রায় ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ও আর্দ্রতাকে টেক্কা দিতে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) নিয়েছে সব ধরনের আধুনিক ব্যবস্থা।
তীব্র গরমের প্রভাব কমাতে টুর্নামেন্ট শুরুর ১০ দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায় ব্রাজিল দল। দলের ফিজিওলজিস্ট গুইলহেরমে পাসোস জানান, শরীর শীতল রাখতে তারা বিশেষ প্রযুক্তির ‘আইস ভেস্ট’ ব্যবহার করছেন। যেগুলোতে বরফের প্যাক রাখার মতো পকেট বা বিশেষ জায়গা রয়েছে।
গুইলহেরমে জানান, ম্যাচের বিরতি ও অনুশীলনের সময় খেলোয়াড়রা এই ভেস্ট পরছেন, যা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করছে। এছাড়া ঘাড় ও মাথায় ঠান্ডা তোয়ালে ব্যবহার এবং ‘স্লাশি’ নামক যন্ত্রের সাহায্যে কুচানো বরফ মেশানো বিশেষ পানীয় তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে খেলোয়াড়দের।
শুধু বাইরের শীতলীকরণ পদ্ধতি নয়, খেলোয়াড়দের শরীরের অভ্যন্তরীণ শক্তির দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। দলের পুষ্টিবিদ আন্দ্রেয়া পিকানচো জানান, প্রতিটি খেলোয়াড়ের ঘামের উপাদান পরীক্ষা করে তাদের জন্য আলাদা হাইড্রেশন বা পুষ্টি পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। দলের স্পনসর ‘গ্যাটোরেড’-এর সহায়তায় খেলোয়াড়দের শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া মিনারেল ও লবণের ভারসাম্য রক্ষা করা হচ্ছে।
এত প্রস্তুতির পরও গরমের চ্যালেঞ্জ অকপটে স্বীকার করেছেন ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। তিনি বলেন, ‘প্রিমিয়ার লিগের মতো এখানেও আমরা তীব্র গতিতে খেলতে চাই, কিন্তু এই প্রচণ্ড গরমের কারণে পুরো ম্যাচে সেই একই ছন্দ ধরে রাখা বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে।’
প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছিল ব্রাজিলকে। তবে পরের ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে তুলনামূলক কম তাপমাত্রায় (২২ ডিগ্রি) খেলার সুযোগ পেয়েছিল তারা।
ব্রাজিল যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরবর্তী রাউন্ডে যেতে পারে, তবে তাদের ভাগ্য ভালোই বলতে হবে। কারণ পরের ম্যাচটি হবে হিউস্টনের পুরোপুরি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) ইনডোর স্টেডিয়ামে।
তবে রানার্স-আপ হলে তাদের খেলতে হতে পারে মেক্সিকোর মনটেরিতে, যেখানে তাপমাত্রার পারদ ৩০ ডিগ্রির ওপরেই থাকে। তাই গরমের এই চ্যালেঞ্জ সামলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াই এখন আনচেলত্তির শিষ্যদের মূল লক্ষ্য।

স্পোর্টস ডেস্ক