৯৮১ দিনের লড়াই শেষে ফিরলেন ব্রাজিলের প্রাণভোমরা
৯৮১ দিন। সংখ্যাটি হয়তো কেবল একটি পরিসংখ্যান। কিন্তু নেইমারের জন্য এটি ছিল অপেক্ষা, যন্ত্রণা, অনিশ্চয়তা আর ফিরে আসার অবিরাম লড়াইয়ের আরেক নাম।
২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে গুরুতর হাঁটুর চোটে মাঠ ছাড়ার পর যেন থেমে গিয়েছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। এরপর কেটেছে দীর্ঘ পুনর্বাসন, অস্ত্রোপচার আর বারবার নিজেকে ফিরে পাওয়ার সংগ্রামে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, ব্রাজিলের জার্সিতে তাকে আর দেখা যাবে কি না।
কিন্তু নেইমার হাল ছাড়েননি। শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তুলেছেন নতুন করে। আর সেই অধ্যবসায়ের পুরস্কার মিলল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের মঞ্চে। ৯৮১ দিন পর আবারও ব্রাজিলের হলুদ জার্সি গায়ে মাঠে নামলেন দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
ম্যাচে তার পায়ে গোল আসেনি। কোনো জাদুকরী মুহূর্তও তৈরি হয়নি। তবু এই রাতটি ছিল শুধুই নেইমারের। বদলি হিসেবে মাঠে নামার পরপরই সেট-পিসের দায়িত্ব নেন তিনি। আর শেষ বাঁশি বাজতেই আবেগ যেন আর ধরে রাখতে পারলেন না। মায়ামি স্টেডিয়ামের গ্যালারির দিকে তাকিয়ে দর্শকদের অভিবাদন জানাতে গিয়ে চোখ ভিজে ওঠে তার। সেই অশ্রুতে ছিল হারিয়ে যাওয়া সময়ের বেদনা। ফিরে আসার স্বস্তি আর স্বপ্নপূরণের আনন্দ।
একসময় যে চোট তার ক্যারিয়ারকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছিল। সেই চোটকেই জয় করে আবার বিশ্বকাপের আলোয় ফিরেছেন নেইমার। ৩৪ বছর বয়সে এসে তিনি খেললেন নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপ। আর ৯৮১ দিনের অপেক্ষার অবসানের এই রাতটি ফলাফলের চেয়েও বেশি মনে রাখা হবে একজন তারকার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প হিসেবে।

স্পোর্টস ডেস্ক