জার্মানির স্বপ্নভঙ্গের নায়ক অরল্যান্ডো গিল
বিশ্বকাপে কখনো কখনো একজন গোলরক্ষকই পুরো ম্যাচের গল্প বদলে দেন। বোস্টনের গিলেট স্টেডিয়ামে অরল্যান্ডো গিল ঠিক সেটিই করেছেন। জার্মানির একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন প্যারাগুয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি। তার অনবদ্য নৈপুণ্যের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
নির্ধারিত সময় থেকে অতিরিক্ত সময়। পুরো ১২০ মিনিট যেন ছিল গিলের অসাধারণ গোলকিপিংয়ের প্রদর্শনী। জার্মানি বলের দখল রেখেছে। একের পর এক আক্রমণ সাজিয়েছে। কিন্তু গোলবারের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা প্যারাগুয়ের এই তরুণকে পরাস্ত করতে পারেনি। কাই হাভার্টজ, লেরয় সানে, ফ্লোরিয়ান ভির্টজদের মতো তারকারাও বারবার হতাশ হয়েছেন তার ক্ষিপ্র রিফ্লেক্স, নিখুঁত অবস্থান আর দুর্দান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার কাছে।
ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেও নায়ক সেই গিল। প্রথমেই কাই হাভার্টজের শট রুখে দিয়ে জার্মানদের চাপে ফেলে দেন। এরপর নিক ভোল্টেমাডের শটও দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত জোনাথান তাহের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে উড়ে গেলে উল্লাসে ফেটে পড়ে প্যারাগুয়ে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টাইব্রেকারে হার মানে জার্মানি।
২৪ বছর বয়সী অরল্যান্ডো গিল বর্তমানে আর্জেন্টিনার ক্লাব সান লরেঞ্জোর হয়ে খেলছেন। প্যারাগুয়ের ক্লাব ১৩ দে জুনিও ও সিএস সান লরেঞ্জোর একাডেমিতে বেড়ে ওঠা এই গোলরক্ষক ধাপে ধাপে নিজেকে গড়ে তুলেছেন। ২০২৩ সালের শেষ দিকে সান লরেঞ্জোতে যোগ দেওয়ার পর পারফরম্যান্সের জোরে জায়গা করে নেন মূল দলে। জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক হয় গত বছরের সেপ্টেম্বরে, পেরুর বিপক্ষে।
অরল্যান্ডো গিলের জন্য বোস্টনের রাতটি হয়ে থাকবে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এক অধ্যায়। জার্মানির বিপক্ষে তাঁর প্রতিটি সেভ ছিল আত্মবিশ্বাসের ঘোষণা, প্রতিটি ডাইভ ছিল বিশ্ব ফুটবলের দরজায় কড়া নাড়া। সেই রাতেই তিনি নিজেকে নিয়ে গেলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

স্পোর্টস ডেস্ক