জার্মানির বিদায়ে ‘শেষ হচ্ছে’ নাগেলসমান অধ্যায়
একসময় বিশ্ব ফুটবলে আধিপত্য ছিল জার্মানির। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি নিয়মিতই শিরোপার দাবিদার হিসেবে মাঠে নামত। কিন্তু সেই দিন যেন এখন অতীত। ২০২৬ বিশ্বকাপে শেষ ৩২ থেকেই বিদায় নিয়ে নতুন করে হতাশা বাড়িয়েছে ইউরোপের শক্তিশালী দলটি।
বস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ সমতা থাকার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জার্মানিকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে প্যারাগুয়ে।
ম্যাচের শুরুতে বল দখলে আধিপত্য ছিল জার্মানির। প্রায় ৭৫ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখেও প্যারাগুয়ের রক্ষণ ভাঙতে পারছিল না তারা। উল্টো ম্যাচে চমক দেখায় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। প্রথমার্ধে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে, গোল করেন হুলিও এনসিসো।
বিরতির পর সমতায় ফেরে জার্মানি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কাই হাভার্টজ হেড থেকে গোল করে দলকে ম্যাচে ফেরান। পরে জনাথন তাহর আরেকটি হেডে বল জালে জড়ালেও সতীর্থের ফাউলের কারণে সেই গোল বাতিল করে দেয় ভিএআর।
সমতা নিয়েই ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে, যেখানে আগে কখনও হারেনি জার্মানি। বিশ্বকাপে আগের চারটি টাইব্রেকারেই জিতেছিল তারা। কিন্তু এবার ভিন্ন চিত্র।
টাইব্রেকারের প্রথম শট নেন হাভার্টজ, তবে তার শট দারুণভাবে ঠেকান প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক। এরপর নিক ভল্টেমাডের শটও রুখে দেন তিনি। মাঝখানে প্যারাগুয়ের দুইটি শট মিস হওয়ায় সুযোগ ফিরে পেয়েছিল জার্মানি।
কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তারা। জনাথন তাহ নিজের শট বারপোস্টের ওপর দিয়ে মারেন। শেষ পর্যন্ত হোসে কানালে নিশ্চিত করেন প্যারাগুয়ের ঐতিহাসিক জয়।
ম্যাচ শেষে হতাশা লুকাননি জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসমান। তিনি বলেন, প্যারাগুয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়া খুবই কষ্টের এবং হতাশাজনক।
২০১৪ সালে শেষবার বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ জার্মানি। দুইবার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পর এবার নকআউটের প্রথম ম্যাচেই হার।
নাগেলসমানের ভবিষ্যৎ নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে নতুন কোচ হিসেবে ইউর্গেন ক্লপকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি তুলেছেন।
তবে সমালোচনার মাঝেও নিজের অবস্থানে অনড় জার্মান কোচ। তিনি জানান, দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা নেই তার। জার্মান ফুটবল ফেডারেশন চাইলে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে প্রস্তুত তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, জার্মানি তাদের পুরনো ভয় ধরানো শক্তি হারিয়েছে। প্রতিপক্ষরা এখন আর তাদের ভয় পায় না। দলে সৃজনশীলতা থাকলেও জয়ের মানসিক দৃঢ়তার ঘাটতি স্পষ্ট।
অন্যদিকে ঐতিহাসিক এই জয়ে উচ্ছ্বসিত প্যারাগুয়ে। শেষ ষোলোতে তারা মুখোমুখি হবে ফ্রান্স অথবা সুইডেনের।

স্পোর্টস ডেস্ক