আনন্দ, স্বস্তি ও চাপ ঝরল অশ্রু হয়ে
চোখের কোণে জল, মুখে এক চিলতে হাসি। দৃশ্যটা কোনো সিনেমার নয়, বাস্তবের। আর সেই বাস্তবের কেন্দ্রবিন্দুতে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি তিনি। আনন্দ, স্বস্তি আর দীর্ঘ লড়াইয়ের চাপ একসঙ্গে মিশে অশ্রু হয়ে ঝরে পড়ে। মুহূর্তেই সেই দৃশ্য হয়ে ওঠে বিশ্বকাপের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তগুলোর একটি।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মিসরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর পুরো ম্যাচজুড়ে ছিল দারুণ উত্তেজনা। শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। এক সময় মনে হচ্ছিল বিদায় প্রায় নিশ্চিত। মাঠে চাপ বাড়ছিল, বাড়ছিল সমর্থকদের উৎকণ্ঠাও। সেই চাপের বড় অংশটাই ছিল মেসির কাঁধে।
পেনাল্টি মিস করার পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। সমালোচনা, হতাশা, সবকিছু ঘিরে ধরেছিল তাকে। কিন্তু সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লিখেছে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের মোড় ঘুরতেই বদলে যায় দৃশ্যপট। শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন বুকের ভেতর জমে থাকা সব আবেগ বিস্ফোরিত হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন মেসি। তবে এই কান্না দুঃখের নয়, এটি স্বস্তির, এটি জয়ের, এটি এক অসাধারণ লড়াইয়ের পর প্রাপ্তির।
এই দৃশ্য আবারও মনে করিয়ে দেয়, মেসিও মানুষ। তারও আছে ভয়, চাপ, আবেগ। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা এই তারকা যখন নিজেকে এভাবে উজাড় করে দেন, তখন সেই মুহূর্ত ছুঁয়ে যায় কোটি ভক্তের হৃদয়।
আর্জেন্টিনাও যেন সেই আবেগ থেকেই শক্তি পায়। খাদের কিনারা থেকে বারবার ফিরে আসার এই গল্পে মেসির অশ্রু হয়ে ওঠে প্রেরণা, হয়ে ওঠে ইতিহাসের অংশ।

স্পোর্টস ডেস্ক