সেমির মহারণে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড
ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে এবার মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত এই দ্বৈরথে দুই দলই রয়েছে দারুণ ছন্দে। একদিকে হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যামের নেতৃত্বে শিরোপার স্বপ্ন দেখছে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, লিওনেল মেসিকে ঘিরে আত্মবিশ্বাসী বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ও তারকাদের উজ্জ্বল উপস্থিতিতে জমে উঠেছে এই সেমিফাইনালের আবহ।
আজ বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিনগত রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা আর ইংল্যান্ড।
ইংল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো সেই ম্যাচে জোড়া গোল করে দলকে জয় এনে দেন জুড বেলিংহ্যাম। রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা মিডফিল্ডার টানা দুই ম্যাচে জোড়া গোল করে নিজের দুর্দান্ত ফর্মের প্রমাণ দিয়েছেন। অধিনায়ক হ্যারি কেইনও ছয় গোল করে দলের আক্রমণভাগের মূল ভরসা হয়ে উঠেছেন।
বেলিংহ্যাম ও কেইনের পারফরম্যান্স ইংল্যান্ডের আক্রমণকে দিয়েছে বাড়তি শক্তি। মাঝমাঠে ডেকলান রাইসের সঙ্গে বেলিংহ্যামের সমন্বয় এবং আক্রমণভাগে বুকায়ো সাকা ও অ্যান্থনি গর্ডনের গতি প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বড় কোনো শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে থাকা ইংল্যান্ড এবার নিজেদের সুযোগ কাজে লাগাতে চাইবে।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা রয়েছে দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাসে। লিওনেল স্কালোনির দল টানা জয়ের ধারা ধরে রেখে সেমিফাইনালে উঠেছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা পুরো টুর্নামেন্টে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণে নিয়মিত চাপ তৈরি করেছে। এর আগে ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন, তাই ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার এই ম্যাচের জয়ী দল শেষ লড়াইয়ে স্পেনের মুখোমুখি হবে।
আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি অবশ্যই লিওনেল মেসি। অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড দলের আক্রমণের মূল চালিকাশক্তি। তার পাশাপাশি হুলিয়ান আলভারেজ, লাউতারো মার্টিনেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও এনজো ফার্নান্দেজও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বড় ম্যাচে অভিজ্ঞতা, ধৈর্য এবং চাপ সামলানোর ক্ষমতা আর্জেন্টিনার অন্যতম বড় অস্ত্র।
ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার দ্বৈরথের ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ এখনো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে জয় পায় আর্জেন্টিনা, আর ২০০২ বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলে জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড।
দুই দলের মুখোমুখি পরিসংখ্যানেও রয়েছে দারুণ লড়াইয়ের ইতিহাস। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা মোট ১৪বার মুখোমুখি হয়েছে। যেখানে ইংল্যান্ড জয় পেয়েছে ছয়বার, আর্জেন্টিনার জয় দুটি এবং বাকি ম্যাচগুলো শেষ হয়েছে ড্রয়ে।
সব মিলিয়ে দুই দলের শক্তি, ফর্ম এবং ইতিহাস বিবেচনায় এই সেমিফাইনাল হতে যাচ্ছে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। একদিকে ইংল্যান্ডের তরুণ প্রতিভা ও আক্রমণভাগের ধার, অন্যদিকে আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞতা ও মেসির নেতৃত্ব। আটলান্টায় তাই অপেক্ষা করছে বিশ্ব ফুটবলের আরেকটি স্মরণীয় লড়াই।
দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ
ইংল্যান্ড : জর্ডান পিকফোর্ড, রিস জেমস, জন স্টোনস, মার্ক গেহি, টিনো লিভ্রামেন্তো, ডেকলান রাইস, জুড বেলিংহ্যাম, বুকায়ো সাকা, এবারেচি এজে, অ্যান্থনি গর্ডন, হ্যারি কেইন।
আর্জেন্টিনা : এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, নাহুয়েল মোলিনা, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ, লাউতারো মার্টিনেজ।

স্পোর্টস ডেস্ক