কিশোরদের জন্য চ্যাটজিপিটি নিয়ে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সংশয়
কিশোর-কিশোরীদের জন্য আলাদা অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে নতুন ‘চ্যাটজিপিটি ফর টিনস’ চালু করেছে ওপেনএআই। তবে শিশু ও কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা নতুন এই উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবে কতটা কার্যকর, তা স্বাধীনভাবে পরীক্ষা ও প্রমাণ করা প্রয়োজন।
এনগ্যাজেটের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়-ওপেনএআই জানিয়েছে, কোনো ব্যবহারকারীকে ১৮ বছরের কম বয়সী হিসেবে শনাক্ত করা হলে তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিশোরদের জন্য তৈরি চ্যাটজিপিটি অভিজ্ঞতায় নেওয়া হবে। এতে শিক্ষামূলক বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হবে এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাড়তি সুরক্ষা থাকবে।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, খাবারসংক্রান্ত জটিলতা বা আত্মক্ষতির মতো গুরুতর ঝুঁকির আলোচনা শনাক্ত হলে সংযুক্ত অভিভাবকদের নিরাপত্তা সতর্কবার্তা পাঠানোর ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। তবে এ ধরনের ব্যবস্থা কতটা নির্ভুলভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
শিশু ও পরিবারভিত্তিক প্রযুক্তি মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান কমন সেন্স মিডিয়ার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল মূল্যায়ন বিভাগের প্রধান রবি টর্নি বলেন, ওপেনএআই গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রতিশ্রুতি দিলেও সেগুলো বাস্তবে কাজ করছে-এমন প্রমাণ প্রয়োজন। তার মতে, স্বয়ংক্রিয় বয়স শনাক্তকরণ প্রযুক্তি শতভাগ নির্ভুল নয়। কতজন কিশোরকে সঠিকভাবে শনাক্ত করা যাচ্ছে এবং কতজন ভুলভাবে শনাক্ত হচ্ছেন, সে বিষয়ে ওপেনএআই এখনো পর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশ করেনি।
শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারের পক্ষে কাজ করা সংগঠন ফেয়ারপ্লের নির্বাহী পরিচালক জশ গোলিনও নতুন ব্যবস্থার জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, শুধু নিরাপত্তা নীতি ঘোষণা করলেই যথেষ্ট নয়; সেগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের ব্যবস্থাও থাকতে হবে। ওপেনএআইয়ের নতুন ব্যবস্থায় ক্ষতিকর বা ঝুঁকিপূর্ণ আলোচনা শনাক্ত হওয়ার পর তা মানব পর্যবেক্ষকের মাধ্যমে পর্যালোচনা করে অভিভাবককে সতর্ক করার কথা বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা এক ঘণ্টার মধ্যে অভিভাবককে জানাতে চায়।
তবে বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক কথোপকথন পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনার জন্য পর্যাপ্ত জনবল আছে কি না। আগে চালানো পরীক্ষায় কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর আত্মক্ষতি বা আত্মহত্যাসংক্রান্ত বার্তার পরও অভিভাবকদের কাছে সতর্কবার্তা পৌঁছাতে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিশোরদের মানসিক সংকট বা খাবারসংক্রান্ত জটিলতার মতো বিষয় শনাক্ত করতে শুধু স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি যথেষ্ট নাও হতে পারে। বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতিতে কিশোররা তাদের মানসিক কষ্ট বা সংকট ভিন্নভাবে প্রকাশ করে। ফলে এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত প্রেক্ষাপট বোঝার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কিশোরদের জন্য অভিভাবক সতর্কবার্তা ব্যবস্থার একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো-অভিভাবক ও সন্তানের অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত থাকতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ অভিভাবক নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাগুলো ব্যবহার করেন না বা এগুলো খুঁজে পাওয়া ও ব্যবহার করা অনেক সময় জটিল হয়ে ওঠে।
তবে খাবারসংক্রান্ত গুরুতর সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে। তাদের মতে, কিশোরদের এ ধরনের ঝুঁকিতে সময়মতো একজন বিশ্বস্ত প্রাপ্তবয়স্ককে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত, কিশোরদের জন্য চ্যাটজিপিটির নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও এর কার্যকারিতা, নির্ভুলতা এবং বাস্তব ফলাফল নিয়ে আরও স্বাধীন পরীক্ষা ও স্বচ্ছতা প্রয়োজন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক