চ্যাটজিপিটির পরামর্শে ওষুধ সেবনে তরুণীর মৃত্যু, ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা
চাকরি হারানোর পর নতুন চাকরির সন্ধানে ছিলেন ৩১ বছর বয়সী বোয়েন ওয়ান। তিনি চীনা বংশোদ্ভূত সফটওয়্যার প্রকৌশলী। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেতে তার নতুন চাকরি প্রয়োজন ছিল। বাওয়েনের আশঙ্কা ছিল, মৃগীরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ল্যামোট্রিজিন ওষুধের কারণে ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতা কমে যাচ্ছে। এতে চাকরির সাক্ষাৎকারে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে সমস্যা হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে তিনি ওষুধের দৈনিক মাত্রা কমানোর উপায় জানতে চান চ্যাটজিপিটির কাছে। কিন্তু সেই চ্যাটবটের দেওয়া পরামর্শ মেনে ওষুধের মাত্রা কমানোর পর খিঁচুনিতে মৃত্যু হয় তাঁর। এ ঘটনায় চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বোয়েনের মা-বাবা। খবর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, চ্যাটজিপিটি তাকে প্রতিদিনের ৪০০ মিলিগ্রাম ওষুধের মাত্রা ধীরে ধীরে কমিয়ে কমিয়ে একপর্যায়ে শূন্যে নামানোর একটি পরামর্শ দেয়। অথচ কোনো চিকিৎসক তাকে ওষুধ বন্ধ করার পরামর্শ দেননি। বরং চ্যাটবটটি তাকে এমন আশ্বাসও দিয়েছিল যে, ওষুধ কমালে ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
অভিযোগে বলা হয়, চ্যাটজিপিটি তাকে চিকিৎসকদের পরামর্শ না নেওয়ার বিষয়ে উৎসাহিত করে। এরপর ওষুধের মাত্রা কমানোর সময় বোয়েনের শরীরে খিঁচুনির লক্ষণ দেখা দিলে চ্যাটজিপিটির কাছে জানতে চান মস্তিষ্কের কোনো ক্ষতি হচ্ছে কি না, চ্যাটবটটি তাকে আশ্বস্ত করে এতে মস্তিষ্কের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। এমনকি তাঁর উপসর্গগুলো খিঁচুনি বলেও মনে করেনি চ্যাটবটটি। এরপর গত ১২ ফেব্রুয়ারি খিঁচুনিতে মারা যান বোয়েন। মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি চীনে থাকা তার মা-বাবা যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে পৌঁছে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেন।
বোয়েনের মা-বাবার অভিযোগ, চীনা ভাষায় কথোপকথনের সময় চ্যাটজিপিটির প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকলে এই মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব হতো।
মেয়ের মৃত্যুর জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করার পাশাপাশি ওপেনএআই যেন লাইসেন্স ছাড়া ব্যবহারকারীদের চিকিৎসাসংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়া বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করেছেন।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র ড্রু পুসাতেরি ঘটনাটিকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেন, বোয়েন চ্যাটজিপিটির এমন একটি পুরোনো সংস্করণ ব্যবহার করেছিলেন, যা বর্তমানে আর চালু নেই। নতুন সংস্করণগুলো জরুরি চিকিৎসার পরিস্থিতি শনাক্ত করতে আগের চেয়ে বেশি সক্ষম বলে জানিয়েছেন তিনি।

ফিচার ডেস্ক