নতুন ফোন না কিনেও পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড দীর্ঘদিন চালানোর উপায়
স্মার্টফোনের দাম দিন দিন বাড়ছে। নতুন ফোন কিনতে এখন আগের তুলনায় বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। ফলে পুরোনো ফোনে সামান্য সমস্যা দেখা দিলেই নতুন মডেল কেনার কথা ভাবেন অনেকে। তবে কিছু সহজ কৌশল অনুসরণ করলে পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনও দীর্ঘদিন ভালোভাবে ব্যবহার করা সম্ভব। এতে নতুন ফোন কেনার খরচও কিছুটা এড়ানো যাবে।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট এনগ্যাজেটের এক প্রতিবেদনে পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনের আয়ু বাড়ানোর কয়েকটি উপায় তুলে ধরা হয়েছে।
ব্যাটারি পরিবর্তন ও ব্যবস্থাপনায় নজর দিন
পুরোনো ফোন দ্রুত চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া, ধীরে চার্জ হওয়া কিংবা ব্যবহারের সময় হ্যাং করার অন্যতম কারণ হতে পারে দুর্বল ব্যাটারি। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমে যায়। এতে প্রসেসরের প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। ফলে অ্যাপ খুলতে দেরি, ফোন ধীরগতিতে চলা কিংবা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
এ অবস্থায় নতুন ফোন কেনার আগে ব্যাটারি পরিবর্তনের কথা ভাবতে পারেন। ফোনের নকশা অনুযায়ী ব্যাটারি সহজে পরিবর্তন করা গেলে খরচও তুলনামূলক কম হতে পারে। তবে ফোনের ব্যাটারি সিল করা থাকলে দক্ষ কারিগরের মাধ্যমে পরিবর্তন করানো ভালো।
এ ছাড়া ফোনের ব্যাটারি সাশ্রয়ী রাখতে ব্যাটারি সেভার মোড চালু করা যেতে পারে। এতে পর্দার উজ্জ্বলতা কমানোসহ কিছু সুবিধা সীমিত করে চার্জের ব্যবহার কমানো যায়। গুগল পিক্সেল ফোনে অ্যাডাপটিভ ব্যাটারি সুবিধা রয়েছে। অন্যদিকে স্যামসাংয়ের কিছু ফোনে কম ব্যবহৃত অ্যাপগুলোকে স্লিপ মোডে রাখার সুবিধা পাওয়া যায়।
চার্জ দেওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন আনুন
ব্যাটারির আয়ু বাড়াতে চার্জ দেওয়ার অভ্যাসেও পরিবর্তন আনা জরুরি। সাধারণভাবে ফোনের চার্জ ২০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা যেতে পারে। এতে ব্যাটারির ওপর রাসায়নিক চাপ কম পড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।
কভার ও স্ক্রিন প্রটেক্টর ব্যবহার করুন
পুরোনো ফোন দীর্ঘদিন ব্যবহার করতে চাইলে সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। শক্তপোক্ত কভার ও স্ক্রিন প্রটেক্টর ব্যবহার করলে ফোন হাত থেকে পড়ে গেলেও বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি কমে। বিশেষ করে ফোনের পর্দা ভেঙে গেলে মেরামতের পেছনে উল্লেখযোগ্য অর্থ খরচ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সেই খরচ নতুন ফোন কেনার সিদ্ধান্তকেও ত্বরান্বিত করে। তাই ফোনের সৌন্দর্যের চেয়ে সুরক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া ভালো।
নিয়মিত সফটওয়্যার হালনাগাদ করুন
পুরোনো ফোনের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা ধরে রাখতে অপারেটিং সিস্টেম নিয়মিত হালনাগাদ করা প্রয়োজন। নতুন সফটওয়্যার হালনাগাদে সাধারণত নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি সংশোধন করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন অ্যাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতেও হালনাগাদ গুরুত্বপূর্ণ। তবে সব পুরোনো ফোনে নতুন অপারেটিং সিস্টেম সমানভাবে ভালো কাজ নাও করতে পারে। কারণ নতুন সংস্করণের সফটওয়্যার তুলনামূলক আধুনিক প্রসেসর ও বেশি মেমোরির জন্য তৈরি হয়। ফলে পুরোনো ফোনে নতুন হালনাগাদের পর কখনো কখনো ধীরগতির সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ফোনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত ও সমর্থিত হালনাগাদই ইনস্টল করা উচিত।
কখন নতুন ফোন কিনবেন?
স্মার্টফোন চিরদিন ব্যবহারযোগ্য নয়। একপর্যায়ে হার্ডওয়্যার, ব্যাটারি কিংবা সফটওয়্যারের সীমাবদ্ধতার কারণে ফোন পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। তবে ব্যাটারি পরিবর্তন, সঠিক চার্জিং অভ্যাস, সুরক্ষাব্যবস্থা এবং নিয়মিত সফটওয়্যার হালনাগাদের মাধ্যমে পুরোনো ফোনের ব্যবহারকাল বাড়ানো সম্ভব।
তাই সামান্য সমস্যায় নতুন ফোন কেনার সিদ্ধান্ত না নিয়ে আগে পুরোনো ফোনটি মেরামত ও যত্নের মাধ্যমে আরও কিছুদিন ব্যবহার করা যায় কি না, তা যাচাই করে নেওয়া ভালো।
সূত্র: এনগ্যাজেট।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক