এবার ভারতজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, উত্তাল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়
ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে গতকাল রোববার বিক্ষোভ করেন রাজধানী নয়াদিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আর ওই বিক্ষোভকে ছত্রভঙ্গ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে কাঁদানে গ্যাস ছোড়াসহ শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে পুলিশ। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া অন্তত ৫০ শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। পরে তাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ।
এদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি বর্বরতা ও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে এবার ভারতজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের ঢেউ উত্তাল হতে শুরু করেছে। সংগঠিত হতে শুরু করেছে দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
এরই মধ্যে গতকাল দিবাগত রাতে বিক্ষোভ করে কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মশাল, স্লোগান, পোস্টার আর গানে মুখর হয় প্রতিবাদ। মাঝরাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটের সামনে জমায়েত শুরু হয় শিক্ষার্থীদের। মশাল হাতে মিছিলে বেরিয়ে পড়ে তারা। স্লোগান ওঠে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বিক্ষোভে শামিল হয় আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও।
গতকাল রাতেই কলকাতার পার্ক সার্কাসের সাতমাথা মোড়ে জমায়েত হয় আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউটাউন ক্যাম্পাস থেকে অন্য একটি মিছিল এসে যোগ দেয় পার্ক সার্কাসে।
কলকাতার পাশাপাশি মুম্বাই, কোচি, হায়দরাবাদ, পাটনা, আলিগড়সহ ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ দেখা যায়।
এদিকে মাওলানা আবুল কালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জমায়েত হয়ে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে পরীক্ষা বর্জন করেছে।
এ ছাড়া আন্দোলনে নেমেছে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ), হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়, মুম্বাইয়ের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) থেকে শুরু করে আলিগড় ও বিহারের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
এদিকে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কলকাতা সংবাদদাতা