ছোটা রাজনকে নিরাপত্তা দিতে ডামি!
হঠাৎ করে দেখলে চেনাই যাবে না যে কে আসল আর কে নকল! চেহারা প্রায় একই রকম, এমনকি পোশাক-পরিচ্ছদ আর আচার-ব্যবহারও এক। ফলে আসল আর নকল চিনতে গেলে যে কেউ গুলিয়ে ফেলবেন। যার জন্য এ ডামি তৈরি করা হয়েছে, তিনি হলেন ভারতের অপরাধজগতের ডন ছোটা রাজন। আর ডামি তৈরি করেছে স্বয়ং ভারত সরকার।
ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, গ্যাংস্টার ছোটা রাজনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই তাঁর আদেলে তৈরি করা হয়েছে প্রায় হুবহু অনুরূপ। মূলত ছোটা রাজনের মতো পোশাক-পরিচ্ছদ পরে তাঁর মতো আচার-আচরণ করবে এই ডামি। সব সময় ছোটা রাজনের কাছাকাছি রাখা হবে ওই ডামিকে। যাতে চটজলদি কেউ দেখে আসল-নকল ছোটা রাজনের মধ্যে পার্থক্য না করতে পারে। সেই সঙ্গে ছোটা রাজনের নিরাপত্তায় ২৫ থেকে ৩০ জন কমান্ডো সব সময় ঘিরে রাখবে এই গ্যাংস্টারকে।
ছোটা রাজনকে ভারতে ফিরিয়ে আনার পর থেকে তাঁর জন্য কঠোর থেকে কঠোরতর নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে ভারত সরকার। সে কারণে গতকাল শুক্রবার সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পরেই ছোটা রাজনকে সোজা নিয়ে যাওয়া হয়েছে দিল্লির সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) দপ্তরে। তাঁর নিরাপত্তার কথা ভেবে এই দপ্তরের মধ্যেই বসানো হয়েছে আদালত। আজ শনিবার সকালে দিল্লির সিবিআই দপ্তরে গিয়ে দিল্লি আদালতের প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট ছোটা রাজনের বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। শুনানি শেষে ছোটা রাজনকে পাঁচদিনের সিবিআই হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
আন্ডারওয়ার্ল্ডের ভিভিআইপি এই ডনের নিরাপত্তার কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সিবিআই। ছোটা রাজনের নিরাপত্তার কথা ভেবে তাঁকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিতে চাননি সিবিআই কর্মকর্তারা। সে কারণে স্বয়ং বিচারককেই দপ্তরে নিয়ে এসে বিচারকাজ পরিচালনা করা হয়।
এই পাঁচদিনে ছোটা রাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড কুখ্যাত মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিম সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন সিবিআই কর্মকর্তারা। এমনকি গত রাতেও ছোটা রাজন সিবিআইয়ের জেরায় বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
এই মুহূর্তে ভারতের অপরাধজগতে ছোটা রাজনের অন্যতম শত্রু দাউদ ইব্রাহিম। ১৯৯৩ সালে মুম্বাই বিস্ফোরণের পর থেকে দাউদের সঙ্গে ছোটা রাজনের শত্রুতার সৃষ্টি হয়। আন্ডারওয়ার্ল্ডের একটি সূত্র জানায়, হিন্দু-মুসলিম ধর্মের ভিত্তিতে ছোটা রাজনের সঙ্গে দাউদ ইব্রাহিমের প্রথম দূরত্ব শুরু হয়। মুম্বাই বিস্ফোরণের পর থেকে দাউদের অন্যতম টার্গেট হয়ে ওঠেন ছোটা রাজন।
একদিকে দাউদ আর অন্যদিকে পুলিশের ভয়ে ভারত থেকে পালিয়ে যান ছোটা রাজন। তবে পালিয়ে গিয়েও মুক্তি মেলেনি তাঁর। ত্রাস সৃষ্টিকারী দাউদের ছায়া তাঁকে অহরহ তাড়া করে বেড়িয়েছে। এর আগে ব্যাংককে রাজনের ওপর হামলা চালায় দাউদের অনুগামীরা। এমনকি অস্ট্রেলিয়ায় দাউদঘনিষ্ঠ ছোটা শাকিল ছোটা রাজনকে হুমকিও দেয়। ফলে বিদেশের মাটিতে গিয়েও শান্তি মেলেনি ছোটা রাজনের।
আন্ডারওয়ার্ল্ডের এই দুই ডনের রেষারেষির কারণেই ছোটা রাজনের নিরাপত্তার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে ভারত সরকার। জেলে কিংবা আদালতে নিয়ে যাওয়া কিংবা আসার সময় ছোটা রাজনের ওপর হামলা হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না তারা। আর এ কারণেই ছোটা রাজনের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো রকম ফাঁকফোকর রাখতে চাইছে না ভারত সরকার।
কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বন্দি ছোটা রাজনের মাধ্যমে দাউদ ইব্রাহীমের বিষয়ে তথ্য পেতে এখন মরিয়া ভারতের গোয়েন্দারা।

কলকাতা সংবাদদাতা