বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তবে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ ও সুদের হার উচ্চে থাকার পূর্বাভাসের কারণে স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে, যার ফলে চলতি মাসে সামগ্রিকভাবে ধাতুটির বড় ধরনের দরপতনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর রয়টার্সের।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তাদের চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছে—এমন খবর আসতেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম এক লাফে ১ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী- প্রতি আউন্স স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে চার হাজার ৫৫৬.৮৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অথচ গত বৃহস্পতিবারই এর দাম কমে দুই মাসের সর্বনিম্ন চার হাজার ৩৬৫.৭৬ ডলারে নেমে গিয়েছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর একটি সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। এই চুক্তির প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা ও তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ধ্বংস করা।
ব্লু লাইন ফিউচারসের প্রধান বাজার কৌশলবিদ ফিলিপ স্ট্রেইবল জানান, স্বর্ণের দাম একটি গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল সাপোর্ট লেভেল থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর এই আশাবাদের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ডলারের সূচক নিম্নমুখী হয়েছে, যা স্বর্ণের দাম বাড়াতে সরাসরি সাহায্য করেছে। ডলারের দাম কমায় বিদেশি ক্রেতাদের জন্য ডলারের মাধ্যমে স্বর্ণ কেনা সাশ্রয়ী হচ্ছে।
স্বর্ণের দাম আজ বাড়লেও চলতি মাসে সামগ্রিকভাবে স্পট স্বর্ণের দাম ১ শতাংশের বেশি কমেছে। এর মূল কারণ মার্কিন সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চে থাকার প্রবণতা। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত এপ্রিলে আমেরিকায় মূল্যস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বেড়েছে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ আগামী বছরের একটা বড় সময় পর্যন্ত সুদের হার কমাবে না। সাধারণত সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়।
এ ছাড়া অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধি ও আমদানি শুল্কের কারণে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ আমদানিকারক দেশ ভারতে স্বর্ণের চাহিদা বেশ কম ছিল। একই সঙ্গে অপর শীর্ষ ভোক্তা দেশ চীনেও ক্রেতাদের সতর্ক মনোভাবের কারণে প্রিমিয়াম কমে গেছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, স্পট রুপার দাম প্রতি আউন্স ৭৫.৬২ ডলারে অপরিবর্তিত ছিল। তবে অন্য ধাতুগুলোর দাম কিছুটা কমেছে; যার মধ্যে প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে এক হাজার ৯১৭.৬৫ ডলারে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমেেএক হাজার ৩৫২.২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং চলতি মাসে এই ধাতুটির দাম ১১ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক