‘হিন্দুস্থান শুধু হিন্দুদের’
হিন্দুস্থান শুধু হিন্দুদের জন্য- বিতর্কিত এই মন্তব্যটি করেছেন, ভারতের আসাম রাজ্যের রাজ্যপাল পি বি আচার্য। রাজ্যটির গোহাটি শহরে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সামনে এ কথা বলেন তিনি। ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম তাঁর এই মন্তব্যের সমালোচনা করে একে ‘হঠকারি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। এ ছাড়া রাজ্যপালের এই মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈসহ অন্যরা।
গত শনিবার অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা পি কে মিশ্রর একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন পি বি আচার্য । ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখা বইটি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘হিন্দুস্থান শুধু হিন্দুদের জন্য। আর এই কারণে বিভিন্ন দেশ থেকে নির্যাতিত হওয়া হিন্দুদের ভারতে ফিরে আসার অধিকার রয়েছে।’
রাজ্যপাল আরো বলেন, ‘হিন্দুদের ভারত ছাড়া অন্যত্র যাওয়ার জায়গা নেই। পক্ষান্তরে, ভারতে যদি কোনো মুসলিম নির্যাতিত হন, তাহলে তিনি পাকিস্তান কিংবা অন্যান্য দেশে চলে যেতে পারেন। কিন্ত হিন্দুদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।’
আসামের রাজ্যপালের এই মন্তব্য সামনে আসার পরই ভারতজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠে। এমনকি অনেকেই তাঁর এই ‘অপরিণামদর্শী’ মন্তব্যের জন্য তাঁকে রাজ্যপাল পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তোলেন। এই দলে ছিলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈও।
‘বেফাঁস’ মন্তব্যের জেরে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে গেছে বুঝতে পেরে গতকাল রোববার রাজ্যপাল জানিয়ে দেন, তিনি নাকি আসলে ওই সব কথা বলতে চাননি! তাঁর কথার ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন আচার্য। এর পর আজ সোমবার ওই বক্তব্যের নতুন ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, আসলে বলতে চেয়েছিলেন, ‘হিন্দু ধর্মাবলম্বী যারা অন্য দেশে নির্যাতনের শিকার, তাঁরা ভারতে আসতে চাইলে আমরা আশ্রয় দেব।’
এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের উদাহরণ দেন তিনি। বলেন অন্য কাউকে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত অনেক সহৃদয়। পি বি আচার্য আরো জানিয়েছেন, যেসব ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, তাঁদের সবাইকে ভারতে স্বাগত। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, ‘যদি কোনো ভারতীয় বংশোদ্ভূত খ্রিস্টান পাকিস্তানের মাটিতে যদি নির্যাতনের শিকার হন, তাহলে তিনি ভারতে চলে আসতে পারেন। ভারতে খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, হিন্দু, জৈন, মুসলিম সব ধর্মের মানুষও স্বাধীনভাবে যেখানে খুশি যেতে পারেন। তবে হিন্দুদের ক্ষেত্রে একমাত্র ভারত ছাড়া নাকি অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই!’
এদিকে রাজ্যপালের আজকের নতুন ব্যাখ্যার পরও থেমে নেই সমালোচনার ঝড়। নতুন ব্যাখ্যার পর আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ বলেছেন, ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী দেশের ঐক্য এবং সংহতি বজায় রাখার যে শপথ রাজ্যপাল নিয়েছিলেন, তা তিনি ভঙ্গ করেছেন। তাঁকে অবিলম্বে রাজ্যপালের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া উচিত।
এদিকে সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যপাল পি বি আচার্য ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। মহাত্মা গান্ধী হত্যার পর যখন এই সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়, সেই সময় ছয় মাস জেলে ছিলেন পি বি আচার্য। এনডিএ জোট সরকার ক্ষমতার আসার পর তাঁকে প্রথম নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল করা হয়। এরপর গত বছরের ডিসেম্বর মাসে তাঁকে আসামের রাজ্যপালের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

কলকাতা সংবাদদাতা