মাংস রান্না না করায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে খুন
স্ত্রীর কাছে মাংস খেতে চেয়েছিল স্বামী। রান্না করতে ভুলে যাওয়ায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ভারতের মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুর জেলায় গত ৬ নভেম্বর এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। সেই ঘটনার পর আজ সোমবার সকালে দিল্লি থেকে নিহতের স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
দিল্লি পুলিশের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, নিহতের নাম শবনম (২৫)। তিনি স্বামী লিয়াকত খানের সঙ্গে জব্বলপুরের চাঁদনী চক এলাকায় থাকতেন। ঘটনার পর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায় স্বামী নিজেই। সেখানে কয়েক ঘণ্টা পর শবনমের মৃত্যু হলে লিয়াকত পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, জব্বলপুরের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে লিয়াকত খুনের ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাছে শবনম ঘটনার বর্ণনা দিলে পরদিন খুব ভোরে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায় লিয়াকত।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের কাছে শবনমের বড় ভাই শাবান সুলতান জানান, বোন শবনম স্বামীর সঙ্গে জব্বলপুরে থাকত। সেখানে চাঁদনী চকে কাপড়ের ব্যবসা করত তার স্বামী লিয়াকত। ৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় লিয়াকত মোবাইলে স্ত্রীকে মাংস রান্না করতে বলে। কিন্তু শরীর অসুস্থ থাকায় মাংস রান্না করতে পারেনি শবনম।
পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি ফিরে লিয়াকত খুব রেগে যায় এবং স্ত্রীর গালে চড় মারে। তার পর কেরোসিন ঢেলে স্ত্রীকে জ্বালিয়ে দেয়। এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তাদের সাত বছরের মেয়ে ভয় পেয়ে পালিয়ে গিয়ে প্রতিবেশীদের ঘটনার কথা জানায়। প্রতিবেশীরা এলে লিয়াকত নিজেই শবনমকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে সে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে নিজেও আহত এমনটি জানায়।
কিন্তু হাসপাতালে মৃত্যুর সময় শবনম চিকিৎসক ও পুলিশকে জানান, ঘটনার সময় তাঁর স্বামী মদ্যপ অবস্থায় ছিল। এর পর ভোররাতে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায় লিয়াকত। পরে শবনমের বিবরণ অনুযায়ী পুলিশ লিয়াকতের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করে।

অনলাইন ডেস্ক