তিনজনকে খুন, আটজন পেল ৪০ হাজার রুপি!
দুই কিশোরসহ আটজন লোক। পরিকল্পনায় সময় লেগেছে ২০ দিন। বাসায় তল্লাশি করে পেয়েছেন ৪০ হাজার রুপি। আর তার আগেই খুন করা হয়েছে মা-বাবা-ছেলেসহ এক পরিবারের তিন সদস্যকে।
ঘটনাটি ভারতের দিল্লির পুরান রাজেন্দ্র নগরের। গত শনিবার সেখানকার একটি বাড়িতে সম্পত্তি বেচাকেনায় যুক্ত সঞ্জয় সোনারিয়া পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করা হয়।
হিন্দুস্তান টাইমসের (এইচটি) খবরে বলা হয়, সম্পত্তি বেচাকেনাকারী সঞ্জয় সোনারিয়া হত্যার ঘ্টনায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রাপ্তবয়স্ক পাঁচজনকে। দুই কিশোরকেও ধরা হয়েছে। অপরজনকে খুঁজে বেড়াচ্ছে পুলিশ।
পুরো হত্যাকাণ্ডের হদিস পাওয়া যায় একটি মোবাইল কল থেকে। ওই মোবাইলটি ২০ দিন আগে চুরি হয়েছিল। সেই মোবাইলের কথোপকথন থেকে বেরিয়ে আসে খুনের সব তথ্য। খুনের আগে মোবাইলটি ব্যবহার করেছিলেন মূল হোতা রাজন সিং।
মামলার তদন্তকারীরা বলছেন, সোনারিয়া নিজেকে সম্পত্তির বড় ব্যবসায়ী বলে দম্ভোক্তি করতেন। তিনি নিজ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলেছিলেন রাজনকে। বিনিময়ে কমিশন দেওয়ার কথা বলেছেন। সম্পত্তি ব্যবসার অর্থ চুরি করতে গিয়ে সোনারিয়া পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুরো হত্যার ছক কষেছেন রাজন সিং। ২০১৩-১৪ সালে দিল্লির তিহার কারাগারে থাকার সময় তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছিল সোনারিয়ার। ওই সময় একজন নারীকে হত্যার ঘটনায় রাজন কারাগারে ছিলেন। আর সোনারিয়া প্রতারণার একটি মামলায় ছিলেন কারাগারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা এইচটিকে বলেন, ‘এক মাস আগে দুটি সম্পত্তি বেচায় মধ্যস্থতা করে ৮০ লাখ টাকা পেয়েছিলেন বলে দাবি করেন সোনারিয়া। এটি বড় গলায় রাজনকে জানিয়েছিলেন তিনি। এমনকি এই অর্থ সম্পত্তির পেছনে ব্যয়ের কথা বলেছিলেন।’
‘এ থেকে রাজনের মনে হয়, সোনারিয়ার বাড়িতে প্রায় এক কোটি রুপি আছে। এর পর তিনি তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে সোনারিয়ার পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা করেন’, যোগ করেন পুলিশ কর্মকর্তা।
পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, গত শনিবার চার সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে রাজন সোনারিয়ার বাড়িতে ঢোকেন। ওই সময় দুই কিশোর সোনারিয়ার বাড়ির চারপাশ খেয়াল রাখছিল।
বাড়িতে ঢুকেই রাজনের দুই সহযোগী সোনারিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। তাঁর স্ত্রী জ্যোতিকে রান্নাঘরে আটকে রাখেন অন্য একজন।
সোনারিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যার পর তাঁর ছেলে পবনকেও একই কায়দায় মারা হয়। পরে সোনারিয়ার স্ত্রী জ্যোতিকে হত্যা করা হয়।
গোটা হত্যাকাণ্ড শেষে সোনারিয়ার তিন বেডরুমের ফ্ল্যাটে পাওয়া যায় মাত্র ৪০ হাজার রুপি। আর নামমাত্র কিছু গয়নাগাটি। হত্যার পর সবার ভাগে পাঁচ হাজারের বেশি কিছু টাকা পড়ে। আর এ জন্য তাঁদের ভোগ করতে হতে পারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

অনলাইন ডেস্ক