স্বদেশি ছাত্রীকে ধর্ষণ, পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি তরুণ দোষী সাব্যস্ত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীতে পড়তে আসা এক নাবালিকা ছাত্রীকে ধর্ষণে আরেক বাংলাদেশি নাবালককে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আজ বুধবার বীরভূমের সিউড়ি জেলার কিশোর (জুভেনাইল) আদালত এ আদেশ দেন।
সিউড়ির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক মহানন্দ দাসের আদালতে ওই অভিযুক্ত বাংলাদেশের ছাত্রের নাম শফিকুল ইসলাম (১৯)। বৃহস্পতিবার তাঁর সাজা ঘোষণা হবে।
২০১৪ সালের আগস্ট মাসে শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী লাগোয়া গুরুপল্লির নিজের ভাড়া ঘরে ওই ছাত্রীকে সহায়তা করার নামে ডেকে এনে ধর্ষণ করে বাংলাদেশের নাবালক ছাত্র শফিকুল ইসলাম। ঘটনার সময় তাঁর বয়স ছিল ১৭ আর ছাত্রীর বয়স ছিল ১৬ বছর।
জানা যায়, মাধ্যমিক পাস করে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বভারতীতে পড়তে আসে ওই ছাত্রী। বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জ জেলার দাদপুর গ্রামের ছাত্র সফিকুল ইসলামের সঙ্গে বিশ্বভারতীতে এসেই পরিচয় হয় তার। বাংলাদেশের বাসিন্দা হওয়ায় স্বভাবতই ওই ছাত্রীর সাহায্যে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন সফিকুল। এরপরই ২০১৪ সালে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, শফিকুল ধর্ষণের ছবি নিজের মোবাইল ফোনে তুলে রেখে ছাত্রীটিকে ব্ল্যাকমেল করতেন। আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসে ছাত্রীটি জানায়, ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ওই ছবির ভয় দেখিয়ে গুরুপল্লির ঘরে তাকে প্রায় দিনই যেতে বাধ্য করতেন শফিকুল। এইভাবে মানসিক টানাপড়েনে থাকতে থাকতে একদিন নাবালিকা ছাত্রীটি তার বাংলাদেশের বাড়িতে মাকে ফোন করে সবকিছু জানায়। এরপর ওই নাবালিকার পরিবারের তরফে শান্তিনিকেতনে এসে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বোলপুর থানায় অভিযোগ জানানো হয়। ৬ ডিসেম্বর শফিকুলকে গ্রেপ্তার করে বোলপুর থানার পুলিশ।
এই মামলায় গত দেড় বছরে ১৯ জন সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্যদাতাদের মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক ও ছাত্রীটির সহপাঠীরা। ওই ছাত্রী তার ওপর অত্যাচারের দিনক্ষণ ও সময় উল্লেখ করে সাক্ষ্য দেন। যার ভিত্তিতে বিচারক যৌন হেনস্থা, বেআইনি আটক, মারধর, বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানী, হুমকি ও মেরে ফেলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষী সব্যস্ত করেন শফিকুলকে।
এই মামলার সরকারপক্ষের আইনজীবী সমিদুল আলম জানান, বিদেশি ছাত্রের হাতে তাঁর দেশেরই নাবালিকা ছাত্রী ধর্ষিত হওয়ার বিচার সিউড়ি আদালতে সম্ভবত এটাই প্রথম। তিনি জানান, যে ধারাই ওই বাংলাদেশি ছাত্রটিকে দোষী সব্যস্ত করেছেন বিচারক। তাতে বাংলাদেশি ওই ছাত্রের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। জানা গেছে, ভারতীয় আইনের ২০৯ নম্বর রুল অনুযায়ী বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের বিচারের প্রক্রিয়াটি প্রতি মুহূর্তে বাংলাদেশি দূতাবাসকে জানানো হচ্ছে।

কলকাতা সংবাদদাতা