নারীর সঙ্গে সম্পর্কের জেরে পদ খোয়ালেন সিঙ্গাপুরের মন্ত্রী
সিঙ্গাপুরের মুসলিম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী ফয়সাল ইব্রাহিম এক নারীর সঙ্গে মেলামেশার জেরে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর আল জাজিরার।
সোমবার এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং বলেন, মন্ত্রী ফয়সাল ইব্রাহিমের সঙ্গে ওই নারীর বেশিরভাগ আলাপচারিতা অনলাইনে বার্তা আদান প্রদানের মাধ্যমে হতো। জনসমক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ফাঁকেও তাদের দেখা হতো।
লরেন্স ওং আরও বলেন, উভয়েই ইতোমধ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ করেছে এবং পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং বলেন, মন্ত্রী ফয়সাল ইব্রাহিম ও ওই নারী কেউই কোনো ফৌজদারি অপরাধ করেননি। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে ফয়সাল ইব্রাহিমের আচরণ একজন রাজনৈতিক পদাধিকারী ও সংসদ সদস্য হিসেবে প্রত্যাশিত মানের ছিল কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ফয়সাল ইব্রাহিম ২০০৬ সাল থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০২৫ সালে মুসলিম বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী হন। তিনি এখন ক্ষমতাসীন পিপলস অ্যাকশন পার্টি ও মন্ত্রিসভার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে পোস্ট করা পদত্যাগপত্রে ফয়সাল ইব্রাহিম বলেন, যদিও আমাদের মধ্যে কোনো শারীরিক সম্পর্ক ছিল না এবং আমি চাইনি, আমাদের আলাপচারিতাগুলো সেরকম কোনো দিকে গড়াক, তবুও আমি যেভাবে আলাপচারিতাগুলো সামলেছি, তাতে আমার বিচারবুদ্ধির অভাব ছিল।
সিঙ্গাপুরের ক্ষমতাসীন পিপলস অ্যাকশন পার্টি বরাবরই নিজেদের ‘স্বচ্ছ’ ভাবমূর্তির জন্য গর্ব করে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক রাজনৈতিক কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত হয়েছে দলটি।
২০২৩ সালে সিঙ্গাপুরের তৎকালীন পরিবহণ মন্ত্রী সুব্রামানিয়াম ইশ্বরানের পাশাপাশি মালয়েশীয় ধনকুবের ও হোটেল ব্যবসায়ী ওং বেং সেংয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়। এক বছর পর সুব্রামানিয়াম ইশ্বরান ওং বেং সেংয়ের কাছ থেকে ৩ লাখ ৮০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলারের (২ লাখ ৯৪ হাজার মার্কিন ডলার) বেশি মূল্যের উপহার গ্রহণের কথা স্বীকার করেন।
সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় বিরোধী দলের দুজন জ্যেষ্ঠ নেতাও ২০২৩ সালে পরকীয়ার কথা স্বীকারের পর পদত্যাগ করেন। এ ছাড়া দুজন মন্ত্রী রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সম্পত্তি ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে তদন্তের মুখোমুখি হন। পরে অবশ্য তারা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান। এর ফলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী লি হিয়েন লুং বলেছেন, একাধিক কেলেঙ্কারির কারণে তার দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার আগেই আরও স্পষ্ট সীমানা নির্ধারণের প্রয়োজন ছিল।
প্রধানমন্ত্রী লরেন ওং বলেন, ফয়সাল ইব্রাহিম এমন পরিস্থিতিতে রাজনীতি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে তিনি মনঃক্ষুণ্ণ।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক