পশ্চিমবঙ্গে একদিনের অভিযানে গ্রেপ্তার ১০ হাজার
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে একদিনের অভিযানে ১০ হাজারের বেশি অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এ গ্রেপ্তারি অভিযান চালানো হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলায় এ অভিযান চালানো হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পশ্চিমবঙ্গের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) অনুজ শর্মা জানিয়েছেন, এ ধরনের অভিযান এখন থেকে লাগাতার চলবে। রাজ্যের বিভিন্ন পুলিশ কমিশনারেট ও জেলা পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান চালাবে।
অনুজ শর্মা জানান, গত রোববার রাতভর গোটা রাজ্যে এ ধরনের অভিযানে ১০ হাজারের বেশি অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া ট্রাফিক আইন অমান্য এবং হেলমেট না পরার কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রায় ১১ হাজার জনকে। তিনি জানান, এক হাজার ৯০০টি বেআইনি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে ৮৫টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২০১টি গুলি, ৭৮১টি তাজা বোমা ও ৬৯ কিলোগ্রাম বোমার মসলা। পাশাপাশি দুই হাজার ৬০০ লিটার দেশি মদ, ১১৪ কিলোগ্রাম গাঁজা, ২০ কেজি হেরোইন ও ৬৫ কেজি অবৈধ শব্দবাজি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাজ্যের নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্ত এলাকায় অপরিচিতদের গতিবিধিসহ সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে চটজলদি ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ জারি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশি কিংবা অপরিচিত কেউ এসে কারো বাড়িতে থাকলে তা সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনকে জানাতে পুলিশ নির্দেশ জারি করেছে। এমনকি পাসপোর্টধারী বিদেশিদের ক্ষেত্রেও পুলিশকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া রাজ্যের কোথাও কেউ বাড়ি ভাড়া নিতে গেলে ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালাদের ছবিসহ জীবনপঞ্জি পুলিশের কাছে জমা রাখা বাধ্যতামূলক। যদি কেউ এই বিধি লঙ্ঘন করে, তবে তার বিরুদ্ধে আইনত কড়া ব্যবস্থা নেবে পুলিশ প্রশাসন।
মূলত, রাজ্যের নিরাপত্তার প্রশ্নে এবং জঙ্গি অনুপ্রবেশ রোধ করতে কোমর বেঁধেছে মমতা সরকারের প্রশাসন।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় জঙ্গি হামলার ঘটনার পরেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় কড়া নিরাপত্তা জারি করা হয়েছে। সীমান্তজুড়ে চলছে রাজ্য পুলিশের কড়া তল্লাশি। তার মধ্যেই সম্প্রতি রাজ্যটির সীমান্তলাগোয়া উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাট থেকে জঙ্গিদের লিংকম্যান আবদুল বাকি মণ্ডল ওরফে বাকিবুল্লাহ ধরা পড়ার পর থেকেই নিরাপত্তা ও ধরপাকড়ের মাত্র বাড়িয়েছে রাজ্য প্রশাসন। পশ্চিমবঙ্গকে করিডোর করে জঙ্গিরা যে অবাধে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পারাপার করে ভারতে প্রবেশ করছে, এর প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বসিরহাট থেকে আটক জঙ্গিদের লিংকম্যান আবদুল বাকি মণ্ডলকে জেরা করে পুলিশ জানায়, ২০০৫ সালে ভারতের লখনউতে অযোধ্যা বিস্ফোরণে বসিরহাটের ঘোজাডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে চোরাপথে চার জেএমবি জঙ্গি সীমান্ত পেরিয়ে বাকি মণ্ডলের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে তারাই উত্তর প্রদেশের লখনউতে অযোধ্যা-কাণ্ডে বিস্ফোরণ ঘটনায়। এ ঘটনায় বাকি মণ্ডল দিল্লি পুলিশের হাতে এর আগে গ্রেপ্তার হয়ে সাত বছর জেল খাটে।

কলকাতা সংবাদদাতা