পশ্চিমবঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গুজ্বর, আতঙ্কে মানুষ
ডেঙ্গুজ্বর আতঙ্কে কাটছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মানুষের দিন। কলকাতা শহর থেকে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে রাজ্যের বিভিন্ন জেলাগুলোতে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বাড়ছে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যাও। তবে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে সব থেকে বেশি আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে কলকাতা ও কলকাতা সংলগ্ন শহরতলীগুলোতেই।
পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডা. বিশ্বরঞ্জন শতপথি জানিয়েছেন, সরকারিভাবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে মারা গেছেন আটজন। আক্রান্তের সংখ্যা ৯৯৫ জন। তবে বেসরকারি তথ্য মতে আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার পেরিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই। বিশেষ করে কলকাতা সংলগ্ন অভিজাত এলাকা বিধাননগরে ব্যাপক হারে ডেঙ্গু এরইমধ্যেই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় মাঠে নেমেছে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দপ্তর। ডেঙ্গুর পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতে ছড়িয়ে পড়ছে অজানা ভাইরাসঘটিত জ্বর। এরইমধ্যে কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় বাড়ছে। ভিড় বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা হাসপাতালগুলোতেও।
কলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের সুপার ডা. পীতবরণ চক্রবর্তী বলেন,‘জ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই অনেক রোগী ভর্তি হচ্ছে। আলাদা করে ফিবার ক্লিনিক চালু করতে হয়েছে আমাদের। জ্বরে আক্রান্তদের মধ্যে থেকে ধরা পড়ছে ডেঙ্গুতে আক্রমণের রোগী।’
গত কয়েকদিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ডেঙ্গু রীতিমতো আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে ফেলেছে। বর্ষার মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ এই হারে ছড়ানোয় চিন্তায় পড়েছে রাজ্য সরকার। ডেঙ্গু মোকাবিলায় কোনো ঢিলেমি চলবে না বলে এরইমধ্যে নির্দেশ জারি করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আবর্জনামুক্ত পরিবেশ এবং কোথাও যাতে পানি না জমে তার জন্য সতর্কতামূলক নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ব্যাপকহারে নেওয়া হয়েছে সচেতনতার কর্মসূচি।
প্রতিবছরই বর্ষার সময় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। এ বছরও সেই রীতি মেনে ডেঙ্গু থাবা বসাতে শুরু করে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে। তবে এ বছর ডেঙ্গু তার চরিত্র অনেকটাই পাল্টে ফেলেছে। ফলে দুশ্চিন্তা বেড়েছে চিকিৎসক মহলেরও।
বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. পঙ্কজ কুমার অধিকারি জানান, মানুষ যেমন তাদের জীবন ধারণ উন্নত করার জন্য ধীরে ধীরে উন্নতির পথে হাঁটে। তেমনি ডেঙ্গুর জীবাণুরাও বেঁচে থাকার তাগিদে তাদের জীবনাযাত্রাকে উন্নত করে। ফলে প্রতিবছর তারা তাদের চরিত্রকে অনেকটাই বদলে ফেলে। ফলে ডেঙ্গুর জীবাণুর নামকরণেরও কিছু পরিবর্তন হয়। ফলে চিকিৎসা শাস্ত্রে ডেঙ্গু মোকাবিলা করতে উন্নত পদ্ধতি গ্রহণ করতে হচ্ছে।
তবে পশ্চিমবঙ্গে ডেঙ্গু এখনো ভয়াবহ আকার নেয়নি বলে মত প্রকাশ করে ডা. পঙ্কজ বলেন, ‘প্রথম থেকে ডেঙ্গু নিয়ে ব্যাপকহারে যে সচেতনতার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তার পজেটিভ ও নেগেটিভ দুটি দিক দেখা দিয়েছে। পজেটিভ দিকে মানুষ আগে থেকেই সচেতন হতে শুরু করে দিয়েছে। আর নেগেটিভ দিক হচ্ছে অযথা কিছু মানুষ সামান্য জ্বর হলেই ডেঙ্গুর ভয়ে চিকিৎসকের কাছে ভিড় জমাচ্ছে। তবে ডেঙ্গু নিয়ে এখনই ভয় পাওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হয়নি।’
কিন্তু চিকিৎসকরা যাই বলুন না কেন, ডেঙ্গু নিয়ে এরইমধ্যে আতঙ্কের বাতাবরণ তৈরি হতে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে।

কলকাতা সংবাদদাতা