এবারও ইছামতীতে ভারত-বাংলাদেশের দুর্গা ভাসান
রাত পোহালেই দুর্গাপূজার বিজয়া দশমী। পূজার অন্তিমলগ্ন। এখন থেকেই শুরু হয়ে গেছে মন খারাপের পালা। তবে বিজয়া দশমীর দিন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনা ও বসিরহাটের টাকি সীমান্তে চিরাচরিতভাবে আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু থাকে ইছামতী নদীর বুকে ভারত-বাংলাদেশের যৌথ দুর্গা প্রতিমা ভাসান। এবারেও সেই আকর্ষণের কমতি নেই।
উত্তাল ইছামতীতে দুই দেশের দুর্গা প্রতিমা নৌকায় তুলে বেশ কিছুটা সময় ঘোরানোর পর ভাসান দেওয়া হয়। যে ভাসানকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা এসে ভিড় জমাতে শুরু করে দিয়েছেন ইছামতী নদীর পাড়ের বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে।
মঙ্গলবার বিজয়া দশমীর শেষ লগ্নে দুর্গা ঠাকুর ভাসানে ইছামতী নদীর বুকে একযোগে ভাসান হবে ভারত-বাংলাদেশের বহু প্রতিমার। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বসিরহাটের টাকিতে ইছমতী নদীতে হবে এ দুই বাংলার প্রতিমা ভাসান। রোববার দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তরফে এ বিষয়ে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিমা ভাসানের সময় যাতে কোনোভাবেই দুই দেশের প্রতিমা পানি-সীমা লঙ্ঘন না করে, সে জন্য বিএসএফ-বিজিবির তরফে যৌথ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ভাসানের সময় যাতে আনন্দ-উল্লাসের মধ্যে কোনোভাবেই দুই দেশে অনুপ্রবেশের ঘটনা না ঘটে, সেদিকে এবার বাড়তি নজর দিচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী, যে কারণে ভাসানের সময় কোনো দেশের দুর্গা প্রতিমা যাতে পানিসীমা অতিক্রম করতে না পারে, সে জন্য রবি ও সোমবার ভারতের পানিসীমায় বিএসএফ ও উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা পুলিশ যৌথ মহড়া দেয়।
বসিরহাটের ইছামতী নদীর এপারে টাকি, বাংলাদেশের ওপারে শ্রীপুর গ্রাম। বিজয়া দশমীর দিন দুইপাড়েই দুর্গা প্রতিমা নৌকায় তুলের ইছামতী নদীতে ঘোরানো হয়। বাজি, পটকা আর রঙিন আলোর ফুলঝুরিতে সন্ধ্যার ইছামতী এক অপরূপ সাজে সেজে ওঠে। সেইসঙ্গে চলে হৈ-হুল্লোড় আর দুই বাংলার অগণিত দর্শকের মধ্যে উচ্ছ্বাস।
ইছামতীর বুকে সন্ধ্যা পেরিয়ে আঁধার নেমে আসতেই দুই দেশের প্রতিমা মাঝনদীতে ভাসান দেওয়া হয়। যে দৃশ্য দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষ এসে ভিড় জমান ইছামতীর দুই তীরে।
তবে এ বছর বিজয়া দশমীতে দুই বাংলার প্রতিমা ভাসানের ক্ষেত্রে ভারত-বাংলাদেশের দুর্গা প্রতিমা যাতে পানিসীমা অতিক্রম না করে, তার জন্য বিজয়া দশমীতে ইছামতীর বুকে স্পিডবোটে নজরদারি চালাবে বিএসএফ ও বিজিবি। ইছামতীর মাঝবরাবর পানিসীমার জিরো পয়েন্ট দিয়ে সমানে চক্কর কাটবে বিএসএফ-বিজিবির স্পিডবোট। ভাসানকে কেন্দ্র করে যাতে কোনোভাবেই অনুপ্রবেশ না ঘটে, তার জন্য সজাগ থাকবে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সেইসঙ্গে ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা পুলিশের তরফেও রাখা হবে নজরদারি। দুর্গা প্রতিমা ভাসান দেওয়ার সময় ইছামতীতে যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে, সেদিকেও এবার কড়া নজর রাখছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। থাকবে আপৎকালীন সব রকমের ব্যবস্থাও।
এর মধ্যেই দুই বাংলার প্রতিমা ভাসান দেখার জন্য বিজয়া দশমীর আগে থাকতেই দূরদূরান্ত থেকে পর্যটকরা এসে ভিড় জমাতে শুরু করে দিয়েছেন বসিরহাটের টাকির বিভিন্ন গেস্টহাউস ও হোটেলে। ইছামতীর বুকে ভারত-বাংলাদেশের দুর্গা প্রতিমার ভাসান দেখার জন্য এখন থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন থেকেই আগ্রহের পারদ চড়তে আরম্ভ করে দিয়েছে।
এবারে দুই বাংলার ভাসানে নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রসঙ্গে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ভাস্কর মুখোপাধ্যায় জানান, বিজয়া দশমীর দিনে ভারত-বাংলাদেশ দুই দেশের প্রতিমা ভাসানকে কেন্দ্র করে ইছামতীর বুকে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পাশাপাশি জেলা পুলিশের তরফে সব রকমের সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। চলবে অতিরিক্ত নজরদারিও।

কলকাতা সংবাদদাতা