ভেনেজুয়েলার উপকূলে আরেকটি তেল ট্যাঙ্কারে যুক্তরাষ্ট্রের ধাওয়া
ভেনেজুয়েলার গুরুত্বপূর্ণ তেল খাতকে লক্ষ্য করে ওয়াশিংটন তাদের চাপের মাত্রা আরও বৃদ্ধি করার অংশ হিসেবে মার্কিন কোস্ট গার্ড রোববার (২১ ডিসেম্বর) নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত আরও একটি তেল ট্যাঙ্কার ধাওয়া করেছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপি-কে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ক্যারিবিয়ান সাগরে এই অভিযানটি এমন সময়ে ঘটছে, যার মাত্র এক দিন আগে কোস্ট গার্ড ভেনেজুয়েলার উপকূল থেকে তাদের দ্বিতীয় জাহাজটি জব্দ করে। দুই সপ্তাহের মধ্যে এটি ছিল জাহাজ জব্দ করার দ্বিতীয় ঘটনা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১৬ ডিসেম্বর ভেনেজুয়েলায় আসা-যাওয়া করা ‘নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেলবাহী জাহাজের’ ওপর অবরোধ ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে তিনি তেল-সমৃদ্ধ দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে মার্কিনীদের কথিত ‘চুরি হওয়া সম্পদ’ ফেরত দেওয়ার দাবি জানান।
ট্রাম্প ক্যারিবীয় অঞ্চলে একটি বিশাল নৌবহরও মোতায়েন করেছেন, যার দাপ্তরিক লক্ষ্য মাদক পাচার মোকাবিলা করা। তবে কারাকাসের দাবি, এটি আসলে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে একটি চাপ প্রয়োগের অভিযান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা এএফপি-কে বলেন, "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড একটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত 'ডার্ক ফ্লিট' (অবৈধ বহর) জাহাজকে সক্রিয়ভাবে ধাওয়া করছে, যা ভেনেজুয়েলার অবৈধ নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর প্রক্রিয়ার অংশ। এটি একটি ভুয়া পতাকা ব্যবহার করে চলছে এবং এর বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় আটকের আদেশ রয়েছে।"
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম শনাক্ত করেছে যে, সংশ্লিষ্ট জাহাজটি হলো 'বেলা ১'। এটি একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার যা ইরান ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে কথিত সম্পর্কের কারণে ২০২৪ সাল থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
বিশেষায়িত সাইট 'ট্যাঙ্কার ট্র্যাকারস'-এর তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি ভেনেজুয়েলার দিকে যাচ্ছিল কিন্তু এতে কোনো মালামাল ছিল না।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে অজ্ঞাত কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী শনিবার গভীর রাতে জাহাজটির কাছে পৌঁছালেও সেটি তল্লাশির জন্য আত্মসমর্পণ করেনি এবং জাহাজের যাত্রা অব্যাহত রাখে।
এর আগে শনিবার ভোরে মার্কিন কোস্ট গার্ড 'সেঞ্চুরিস' নামের একটি জাহাজ জব্দ করে। 'ট্যাঙ্কার ট্র্যাকারস'-এর মতে, এটি একটি চীনা মালিকানাধীন এবং পানামার পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই জাহাজটি চলতি মাসের শুরুর দিকে ভেনেজুয়েলার একটি বন্দরে ১৮ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বোঝাই করে। এরপর ১৮ ডিসেম্বর এটিকে লাতিন আমেরিকার দেশটির 'অর্থনৈতিক অঞ্চল' থেকে বের করে নিয়ে আসা হয়।
তবে এএফপি-র একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, 'সেঞ্চুরিস' জাহাজটি মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত কোম্পানি বা ব্যক্তিদের তালিকায় ছিল না।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ভেনেজুয়েলা তার প্রধান সম্পদ তেলকে ‘মাদক-সন্ত্রাসবাদে’ অর্থায়নের জন্য ব্যবহার করছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবিয়ান সাগর এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে তাদের ভাষায় ‘মাদক পাচারকারী নৌকাগুলোর’ ওপর ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। তবে সমালোচকরা এই হামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কারণ এতে এখন পর্যন্ত ১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
কারাকাস মাদক পাচারের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে এবং জোর দিয়ে বলছে যে, ভেনেজুয়েলার তেলের মজুদ দখল করতে ওয়াশিংটন মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক