‘বিক্ষোভকারীদের হত্যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চরিত্র একই’
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটির (ডিএনসি) চেয়ারম্যান কেন মার্টিন রোববার (১১ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কয়েকটি পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, উভয় দেশই ‘বিক্ষোভকারীদের হত্যার’ জন্য দোষী। খবর ফক্স নিউজের।
মার্কিন সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে ‘জবাবদিহিতাহীন ব্যবস্থার’ বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় দেশের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন।
কেন মার্টিন লেখেন, ‘তেহরান থেকে শুরু করে আমার জন্মস্থান মিনিয়াপোলিস পর্যন্ত, মানুষ এমন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জেগে উঠছে, যেখানে জবাবদিহিতা ছাড়াই নিপীড়ন চালানো হয়। ইরানে সাহসী বিক্ষোভকারীরা একটি অতি-ডানপন্থি ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে ভিন্নমতকে দমন এবং মৌলিক স্বাধীনতাকে অস্বীকার করা হয়।’
মার্টিন আরও লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই বাহিনীর গুলিতে রেনি গুড নামের এক নারী নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ মিছিল করছে। তারা ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা এবং একটি অনিয়ন্ত্রিত ফেডারেল বাহিনীর কার্যক্রম অবসানের দাবি জানিয়েছে। ওই বাহিনী মানুষের জীবন কেড়ে নেয় এবং পরিবারগুলোকে টুকরো করে ফেলে। সীমান্ত ছাড়িয়ে সংহতি প্রকাশ মানে সর্বত্রই কর্তৃত্ববাদী ক্ষমতার বিরোধিতা করা এবং ভয় ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতা থেকে মুক্তভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রক্ষা করা।
এই ডেমোক্র্যাট নেতা ইরান সরকারের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভের কথা ইঙ্গিত করেন। দেশটিতে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টায় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে বহু মানুষের মৃত্যু এবং হাজার হাজার মানুষ আটক হয়েছে।
গত সপ্তাহে মিনিয়াপোলিসে একজন আইসিই কর্মকর্তা রেনি নিকোল গুড নামের ৩৭ বছর বয়সী এক নারীকে গুলি করে হত্যা করে। রেনি গুডের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তার গাড়িটি আইসিই কর্মকর্তাদের দিকে চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
ট্রাম্প প্রশাসনকে ইরানি সরকারের সঙ্গে তুলনা করায় মার্টিন তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হন। এর কয়েক ঘণ্টা পর তিনি আরেকটি পোস্ট দেন।
মার্টিন লেখেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের তুলনায় তোমার রাগ ওঠে, তাহলে প্রশ্ন তুলো কেন? বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা। ভিন্নমত দমন করা। বৈধ নাগরিকদের অপহরণ করে গুম করা। আদালত উপেক্ষা করা। সমালোচকদের হুমকি দেওয়া। মানুষকে ভীতি প্রদর্শন করা। এগুলো কর্তৃত্ববাদী আচরণ—যেকোনো জায়গার ক্ষেত্রেই। যদি তুমি তাৎক্ষণিক এটিকে প্রতিহত করতে চাও, তাহলে হয়ত সমস্যা তুলনার নয়। ট্রাম্প এটি চাপিয়ে দিচ্ছেন, আমেরিকানরা এটি মেনে নিচ্ছেন না এবং মিনিয়াপোলিস চুপ থাকবে না।’
মার্টিন তার পোস্টে এক মন্তব্যকারীকে জবাব দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি–বিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েমকে উপহাস করেন। তিনি লেখেনে, ‘আরে এমএজিএ (মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন, ট্রাম্পের স্লোগান) ভূত, কেউ সহিংসতাকে উৎসাহিত করছে না। আমরা আইনের শাসনকে উৎসাহিত করছি। এতে যদি তোমার ভয় লাগে, তাহলে হয়ত তোমার ব্যর্থ প্রেসিডেন্ট ও তার বার্বি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিরেক্টরের মতো যারা আইন ভঙ্গ করে তাদেরকে রক্ষা করা বন্ধ করো। ২০২৬ সালে ব্যালট বাক্সে দেখা হবে।’
এ বিষয়ে জানতে ফক্স নিউজ ডিজিটাল ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটি ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি।
ট্রাম্পের কাছে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের পরাজিত হওয়ার পর ফেব্রুয়ারিতে কেন মার্টিন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর থেকে তিনি প্রায়ই কঠোর ভাষায় ট্রাম্পকে আক্রমণ করেন। ট্রাম্পকে তিনি ‘স্বৈরশাসক’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনকে ‘লাল টাই পরা ফ্যাসিবাদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক