মিনিয়াপলিসে আরও ‘স্মার্ট’ অভিযানের অঙ্গীকার ট্রাম্প প্রশাসনের
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নবনিযুক্ত প্রধান অভিবাস কর্মকর্তা বা ‘বর্ডার জার’ হিসেবে পরিচিত টম হোমান জানিয়েছেন, মিনিয়াপলিস শহর থেকে কিছু ফেডারেল এজেন্ট প্রত্যাহার করা হতে পারে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলীয় মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের এই শহরটি বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী কঠোর অভিযানের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
মিনিয়াপলিসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক জনরোষের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য মেইন-এ তাদের অভিবাসন বিরোধী অভিযান কিছুটা শিথিল করেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
মিনিয়াপলিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে টম হোমান শহরটিতে অভিবাসন বিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। তবে তিনি এও জানান, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা বাড়লে সেখানে ফেডারেল এজেন্টের সংখ্যা কমানো হতে পারে।
বর্ডার জার হোমান বলেন, “আমরা আমাদের লক্ষ্য থেকে মোটেও সরে আসছি না। আমরা কেবল আরও বুদ্ধিদীপ্ত বা 'স্মার্ট' উপায়ে কাজ করছি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সমস্যার সমাধান চান এবং আমি এটি সমাধান করতে যাচ্ছি।”
মুখোশধারী এবং ভারী অস্ত্রে সজ্জিত ফেডারেল এজেন্টদের মাধ্যমে অভিবাসীদের তুলে নেওয়ার প্রতিবাদে মিনিয়াপলিসে কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনে মার্কিন মেয়রদের এক সম্মেলনে মিনিয়াপলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে সাম্প্রতিক অভিযানকে ‘আক্রমণ’ বা ‘অনুপ্রবেশের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, “মানুষের সাংবিধানিক অধিকার পদদলিত করা হয়েছে। বৈষম্য করা হচ্ছে কেবল এই ভিত্তিতে যে—'আপনি কি সোমালি?', 'আপনি কি ল্যাটিনো?' অথবা 'আপনি কি দক্ষিণ-পূর্ব এশীয়?'-এসব কথা বলে। আমাদের আমেরিকা এভাবে চলে না।"
এদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বৃহস্পতিবার একটি ক্যাবিনেট বৈঠক করেছেন, তবে সেখানে সাংবাদিকরা উপস্থিত থাকা অবস্থায় মিনেসোটার অস্থিরতা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এমনকি কর্মকর্তাদের বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রধান ক্রিস্টি নোয়েমকে কথা বলার সুযোগ দেননি। ট্রাম্প মূলত টম হোমানকে সরাসরি তার কাছে রিপোর্ট করার নির্দেশ দিয়ে মিনেসোটার অভিযানের দায়িত্ব দিয়েছেন, যা কার্যত নোয়েমকে একপাশে সরিয়ে রাখার নামান্তর।
মিনিয়াপলিসের ৪৩ বছর বয়সী ফ্রিল্যান্স চিকিৎসা পেশাজীবী ক্যাস (ছদ্মনাম) এএফপি-কে বলেন, হোমানের নিয়োগ প্রশাসনের কৌশল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই রাজনৈতিক লড়াই এখন কংগ্রেসেও পৌঁছেছে। সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা একটি পদ্ধতিগত ভোট প্রত্যাখ্যান করায় সরকারি অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ার (শাটডাউন) আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মিনেসোটায় দুই বিক্ষোভকারী নিহতের ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটরা অঙ্গীকার করেছেন যে, যতক্ষণ না হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অর্থায়নের ক্ষেত্রে আইসিই (কাস্টমস অ্যান্ড ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট)-এর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বা সুরক্ষাকবচ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, ততক্ষণ তারা এই বিল পাস হতে দেবেন না।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক