কুর্দিরা ইরান সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে তাদের সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধ এখন ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে। এই সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে উত্তর ইরাকের কুর্দি যোদ্ধাদের সহায়তার প্রস্তুতি নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কুর্দি ভিন্নমতাবলম্বী গোষ্ঠীগুলো ইরানে সীমান্ত পেরিয়ে বড় ধরনের অভিযানের পরিকল্পনা করছে, যেখানে মার্কিন বাহিনী তাদের আকাশপথে সুরক্ষা (এয়ার সাপোর্ট) দেবে বলে জানিয়েছে।
ইতোমধ্যে ইরাক-ইরান সীমান্তের কয়েক ডজন পুলিশ স্টেশন ও সামরিক ঘাঁটিতে তীব্র বিমান হামলা চালানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ইরানের ভেতরের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে এভাবে উসকে দিলে দেশটিতে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসুরি হিসেবে তার মেজ ছেলে মোজতবা খামেনির নাম জোরালোভাবে আসছে। তিনি একজন কট্টরপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত, যা ইঙ্গিত দেয় ইরান তাদের বর্তমান যুদ্ধংদেহি অবস্থান থেকে সরবে না।
এদিকে, ইরানের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে বোমা হামলায় ১৭৫ জন নিহতের ঘটনায় মার্কিন দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হোয়াইট হাউস সরাসরি দায় স্বীকার না করলেও পেন্টাগন বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে।
শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় ইরানের যুদ্ধজাহাজ ‘আইরিস ডেনা’ ডুবে গেছে। এই ঘটনায় অন্তত ৮৭ জন ইরানি নাবিক নিহত হয়েছেন। ভারত মহাসাগরে একটি নৌ-মহড়া শেষে ফেরার পথে এই হামলার শিকার হয় জাহাজটি। অনেক সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো উসকানি ছাড়া এভাবে একটি দেশের পুরো সামরিক বাহিনীকে নির্মূল করার চেষ্টা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন কি না।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভোরে ইরান ইসরায়েলের তেল আবিব ও জেরুজালেমে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর ঠিক আগেই ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের বৈরুতে হিজবুল্লাহর ওপর নতুন করে হামলা শুরু করে। যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের নাগরিকদের ওমান, মিশর ও সৌদি আরব হয়ে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য বিশেষ বিমান ও সামরিক যানের ব্যবস্থা করছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ অন্তত আট সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। তিনি বরেন, প্রয়োজনে আরও যুদ্ধবিমান পাঠানো হবে। তবে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা গোপন এক বৈঠকে আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, ইরান হাজার হাজার ড্রোন ব্যবহার করছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সবকটি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করা সম্ভব নাও হতে পারে। অন্যদিকে, মার্কিন সিনেটের রিপাবলিকানরা ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতা কমানোর প্রস্তাব বাতিল করে দিয়েছেন, যার ফলে ট্রাম্প এখন কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই ইরানে অভিযান চালিয়ে যেতে পারবেন।
যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে। তবে মার্কিন প্রশাসন বলছে, এটি একটি সাময়িক সমস্যা। লক্ষ্য অর্জনের জন্য এই টুকু ‘সামান্য মূল্য’ দিতে তারা প্রস্তুত। তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ট্রাম্প প্রশাসন বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নৌ-প্রহরী দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক