তেল আবিবসহ ইসরায়েলের কয়েকটি শহরে বিকট বিস্ফোরণ
ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের সপ্তম দিনে এসে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ মার্চ) ইসরায়েলের বাণিজ্যিক কেন্দ্র তেল আবিবসহ বেশ কয়েকটি শহরে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরান থেকে সরাসরি ইসরায়েল অভিমুখে নতুন করে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে এই হুমকি মোকাবিলায় কাজ করছে। খবর এএফপির।
একই সময়ে ইরানের রাজধানী তেহরানেও বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী। প্রেস টিভি ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তেহরানের জনবহুল আবাসিক এলাকা ও স্বনামধন্য তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে ব্যাপক বিস্ফোরণ ঘটেছে।
আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩৩২ জনে। তেহরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত পারান্ড শহরের দুটি স্কুলও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো লেবাননের ওপরও আক্রমণ জোরদার করেছে। রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠের পাশাপাশি পূর্ব লেবাননের বেকা উপত্যকা এবং দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানকে এমনভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে যা আগে কেউ দেখেনি। তাঁর মতে, ইরানের বিমানবাহিনী ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন পুরোপুরি অকেজো।
ইরানও তার কৌশল বদলায়নি। তারা সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও বাহরাইনের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) গভীর রাতেও তেল আবিব যৌথ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছিল। যুদ্ধের এই বিস্তৃতি পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী এবং রক্তক্ষয়ী সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক