যুদ্ধাবস্থায় ঘরে বসেই অফিস করবেন ইরানের নারীরা
চলমান যুদ্ধ ও সংঘাতময় পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রশাসনিক কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ইরান সরকার। আগামী রোববার (৮ মার্চ) থেকে রাজধানী তেহরান প্রদেশের সকল মন্ত্রণালয়, সরকারি দপ্তর ও নির্বাহী সংস্থাগুলো সীমিত পরিসরে পুনরায় চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন এই নির্দেশনায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো নারী কর্মীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া। খবর আলজাজিরার।
ইরান সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, তেহরান প্রদেশের সকল নারী কর্মচারী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সশরীরে কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়ার পরিবর্তে নিজ নিজ বাড়ি থেকে বা অনলাইনে অর্থাৎ ‘রিমোট ওয়ার্ক’ পদ্ধতিতে দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করবেন। মূলত সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে নারীদের ঝুঁকি কমাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য নির্বাহী সংস্থাগুলোতে কেবল ২০ শতাংশ পুরুষ কর্মী সশরীরে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তবে এই সাধারণ নির্দেশনার বাইরে রাখা হয়েছে জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোকে। বিশেষ করে পৌরসভা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা কেন্দ্র, সামরিক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে কোনো রিমোট ওয়ার্কের সুবিধা থাকছে না; তাদের আগের মতোই পূর্ণ শক্তিতে মাঠে সক্রিয় থাকতে বলা হয়েছে।
এছাড়া তেহরান প্রদেশের সকল উচ্চপদস্থ ও ব্যবস্থাপক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য অফিসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকও খোলা রাখা হবে। সংঘাতের এই কঠিন সময়ে প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে নাগরিকদের জীবন রক্ষার ভারসাম্য আনতেই তেহরান এই কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক