দ্বিতীয় সপ্তাহে ইরান যুদ্ধ, ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। সংঘাত কবে বা কীভাবে শেষ হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করেছেন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না, যদি না তারা নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে। তিনি আরও বলেন, এরপর ইরানে একটি ‘গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী নেতৃত্ব’ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশটিকে পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা কাজ করবে। খবর আল জাজিরার।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়, যখন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, কিছু দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা শুরু করেছে। এতে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে সামান্য আশার সৃষ্টি হলেও যুদ্ধের পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত।
যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহ পর সংঘাত ইতোমধ্যে ইরানের সীমানা ছাড়িয়ে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান ইসরায়েল ছাড়াও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও সৌদি আরব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নতুন ঘটনার কথা জানিয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েল লেবাননেও হামলা জোরদার করেছে। শুক্রবার বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালানো হয়। হামলার আগে ওই এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয় ইসরায়েলি বাহিনী।
ইসরায়েল দাবি করেছে, তাদের প্রায় ৫০টি যুদ্ধবিমান ইরানের রাজধানী তেহরানে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ধ্বংসপ্রাপ্ত কম্পাউন্ডের নিচে থাকা একটি বাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে। আজ শনিবার (৭ মার্চ) ভোরে তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার কারণে ব্যাপক মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল জানিয়েছে, গত চার দিনে দেশটিতে প্রায় তিন লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, অভিযানের প্রথম সপ্তাহেই তারা ইরানের প্রায় ৮০ শতাংশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে এবং ৬০ শতাংশের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র অকার্যকর করেছে।
যুদ্ধের প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে। ট্রাম্পের আত্মসমর্পণের দাবির পর ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এদিকে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের মতামত থাকা উচিত। তবে ইরানের জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি জানিয়েছেন, দেশটির সংবিধান অনুযায়ী এবং শুধুমাত্র ইরানি জনগণের ইচ্ছাতেই নতুন নেতা নির্বাচিত হবে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে অন্তত ১৩৩২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট। লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১২৩ জন নিহত ও ৬৮৩ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইরানি হামলায় ইসরায়েলে ১১ জন নিহত এবং মার্কিন বাহিনীর অন্তত ছয় সদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক