যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় শতভাগ প্রস্তুত ইরান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধ্বংসাত্মক হুঁশিয়ারি ও ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতির জবাবে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, ট্রাম্পের এ ধরনের হুমকিমূলক বাগাড়ম্বর ও বলপ্রয়োগের কৌশল কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়; বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতেই ইরানের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।
রোববার (১৭ মে) ওয়াশিংটনের আক্রমণাত্মক ভাষার জবাবে সমান সংকল্প ও সামরিক প্রস্তুতি প্রদর্শন করে তেহরান জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের যুদ্ধ বা আগ্রাসন মোকাবিলায় তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। খবর আলজাজিরার।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক বিবৃতিতে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, হরমুজ প্রণালি কিংবা দেশের অভ্যন্তরে—যেকোনো স্থানে যেকোনো ধরনের সামরিক উসকানি নস্যাৎ করতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ‘এই মুহূর্তেই’ শতভাগের চেয়েও বেশি প্রস্তুত রয়েছে।
এর আগে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ইরানের জন্য সময় শেষ হয়ে আসছে। তাদের জন্য ভালো হবে তারা যেন খুব দ্রুত (চুক্তির বিষয়ে) পদক্ষেপ নেয়। অন্যথায় তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। মনে রাখতে হবে, সময় অত্যন্ত মূল্যবান!
এই হুঁশিয়ারির মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আধঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ফোনালাপ হয়েছে ট্রাম্পের।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘কানের’ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইরানের সঙ্গে পুনরায় পুরোদমে সংঘাত বা যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এই আলোচনাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
ফোনালাপে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক কৌশলের পাশাপাশি ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সাম্প্রতিক তিন দিনের বেইজিং সফর নিয়েও নেতানিয়াহুকে ব্রিফ করেন। চীন সফরের সময় বেইজিং প্রশাসন ও তেহরানের জ্বালানি বা তেল কূটনীতি নিয়ে ট্রাম্পের কী ধরনের আলোচনা হয়েছে, তার একটি খতিয়ান তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে জানান।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক